পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়তে থাকায়, কেন্দ্র সরকার মঙ্গলবার অপরিহার্য পণ্য আইন (Essential Commodities Act) (EC Act) প্রয়োগ করেছে যাতে দেশের জ্বালানি বাজারে কোনও ধরনের ঘাটতি না তৈরি হয়।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, একটি কন্ট্রোল অর্ডার জারি করা হয়েছে যাতে রিফাইনারি এবং পেট্রোকেমিক্যাল ইউনিটগুলোকে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হাইড্রোকার্বন উপাদানগুলোকে এলপিজি পুলে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় থাকে।
advertisement
আরও পড়ুন: ভোটার তালিকা থেকে নাম কেন বাদ পড়ল? জানাতে হবে কারণ, SIR-নিয়ে নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, এই আইনের প্রয়োগের ফলে প্রাকৃতিক গ্যাস বণ্টনের জন্য একটি অগ্রাধিকারভিত্তিক কাঠামো কার্যকর হয়েছে, যাতে বর্তমান সরবরাহ সংকট মোকাবিলা করা যায়। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা গৃহস্থালি গ্যাস (PNG) এবং পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত সিএনজি (CNG)-কে ১০০% নিশ্চিত সরবরাহ দেওয়া হবে। অন্য খাতগুলির ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহার অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে।
চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে দেশের তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এলপিজি উৎপাদন বাড়াতে এবং গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে Indian Oil Corporation Limited, Bharat Petroleum Corporation এবং Hindustan Petroleum Corporation জানিয়েছে, গৃহস্থালি ব্যবহারকারী এবং জরুরি পরিষেবা খাতের জন্য পর্যাপ্ত এলপিজি মজুত নিশ্চিত করতে মন্ত্রক ইতিমধ্যে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এলপিজির ঘাটতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, সেই কারণে মন্ত্রক এলপিজি উৎপাদন বাড়ানোর এবং তা গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য সুরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গৃহস্থালি গ্রাহকদের পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য জরুরি অ-গৃহস্থালি খাতের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহ করা হবে।”
এছাড়াও, অন্যান্য অ-গৃহস্থালি খাতে এলপিজি সরবরাহের বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্য তেল বিপণন সংস্থাগুলির তিনজন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিভিন্ন আবেদন খতিয়ে দেখে অগ্রাধিকার অনুযায়ী এলপিজি সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেবে।
