শনিবার শিয়ালকোটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খাওয়াজা আসিফ দাবি করেন, ভারতের তরফে কোনও “অ্যাডভেঞ্চার” হলে তার জবাব অত্যন্ত কঠোর হবে। তিনি বলেন, “যদি ভারত এইবার কোনও ফলস ফ্ল্যাগ অপারেশন সাজানোর চেষ্টা করে, তাহলে ইনশাল্লাহ আমরা বিষয়টিকে কলকাতা পর্যন্ত নিয়ে যাব।” তাঁর এই বক্তব্য কার্যত সরাসরি কলকাতাকে নিশানা করার হুঁশিয়ারি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
advertisement
সুখবর! হরমুজ পেরোল ভারতীয় LPG ট্যাঙ্কার ‘গ্রিন সানভি’, কত গ্যাস নিয়ে কবে এসে পৌঁছবে?
আসিফ আরও অভিযোগ করেন, ভারত সম্ভাব্যভাবে একটি “ফলস ফ্ল্যাগ” অপারেশন ঘটাতে পারে, যেখানে স্থানীয় অপারেটিভ বা ভারতের হেফাজতে থাকা পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য পেশ করেননি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে সাধারণত এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণসাপেক্ষ না হলে গুরুত্ব পায় না, তবুও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে, বৃহস্পতিবারও খাওয়াজা আসিফ জানিয়েছিলেন যে, ভারতের তরফে কোনও হামলা হলে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া হবে “দ্রুত, পরিমিত এবং সিদ্ধান্তমূলক।” তাঁর এই ধারাবাহিক মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ইসলামাবাদ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছে এবং সামরিক প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-ও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনও ধরনের “অ্যাডভেঞ্চার” হলে ভারতের জবাব হবে “অভূতপূর্ব এবং সিদ্ধান্তমূলক।” ফলে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই উত্তেজনার মূল সূত্রপাত গত বছরের ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও হামলা। ওই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়েছিল, যা দ্রুতই দুই দেশের সম্পর্ককে তলানিতে নামিয়ে আনে। সেই সংঘাতের রেশ এখনও কাটেনি, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য মূলত কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার অংশ হতে পারে। তবে কলকাতার মতো একটি বড় মহানগরীর নাম সরাসরি উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
