পিঙ্কির পরিবার আদতে উত্তর প্রদেশের জৌনপুরের গ্রামের ভেঁসা গ্রামের বাসিন্দা হলেও তাঁরা বহু বছর ধরেই মুম্বইয়ে ওরলি এলাকায় বসবাস করছে৷ পিঙ্কির পড়াশোনাও মুম্বইয়ে৷ পিঙ্কি বিমানসেবিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন৷
বুধবার পিঙ্কির বাবা শিবকুমার মালি এনডিটিভি-কে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) মেয়ে আমাকে ফোন করে বলল, বাবা আমি অজিত দাদার (অজিত পওয়ার) সঙ্গে বারামতি যাচ্ছি৷ বারামতিতে অজিত পওয়ারকে পৌঁছে দেওয়ার পর আবার নানদের যাবো৷ আগামিকাল তোমার সঙ্গে কথা বলব৷ আমিও ওকে বলেছিলাম যে ওর কাজ শেষ হলে আবার আমরা কথা বলব৷ কিন্তু সেই সুযোগ আর হল না৷’
advertisement
শিবকুমার জানিয়েছেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে অজিত পওয়ারের সঙ্গে বিমানে সফর করেছিলেন পিঙ্কি৷ নিয়মিতই ওই চার্টার্ড বিমানে মুম্বই থেকে বারামতি অথবা নানদের রুটে ফ্লাইট অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে যাতায়াত করতেন পিঙ্কি৷ কিন্তু বুধবার কী ঘটে গেল, তা মাথায় ঢুকছে না শিবকুমারের৷ পিঙ্কির বাবা বলেন, ‘কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল অত কিছু আমি বুঝি না৷ আমি শুধু এখন চাই আমার মেয়ের দেহটা যাতে আমি ঠিক মতো হাতে পাই যাতে মর্যাদার সঙ্গে ওর শেষকৃত্যটুকু করতে পারি৷’
কান্নায় ভেঙে পড়ে পিঙ্কির মা বলেন, ‘সকাল থেকে কেউ আমাকে কিছু বলছিল না৷ আমার মনে হচ্ছিল খুব খারাপ কিছু ঘটেছে৷ মেয়ে আমাকে রোজ সকালে ফোন করে বলত মা খাবার খেয়ে নেও, ওষুধ খাও৷ আজকে ওর ফোন আসেনি৷ মেসেজেরও উত্তর দেয়নি৷ তখনই বুঝেছিলাম খারাপ কিছু ঘটেছে৷’
অজিত পওয়ার এবং পিঙ্কি ছাড়াও ওই চার্টার্ড বিমানে অজিত পওয়ারের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী এবং বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলট ছিলেন৷ দুর্ঘটনায় প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে৷
