সূত্রের খবর, এফ আই আর-এ দীপ্তিকে ধারাবাহিকভবে মানসিক এবং শারীরিক নির্যাতন, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং বারবার অপমানের অভিযোগ করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যেই দীপ্তির শ্বশুরবাড়ির দিল্লির বসন্ত বিহার বাসভবনে শুরু হয়েছে তদন্ত৷
advertisement
মৃতার মায়ের অভিযোগ, ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চে দীপ্তির স্বামী অর্পিত এবং শাশুড়ি দু’জনে মিলে দীপ্তিকে বেধড়ক মারধর করেন। ২০১১ সালের শুরুর দিকে, যখন দীপ্তি গর্ভবতী ছিলেন, তখন তাঁর স্বামী ও শাশুড়ি নাকি তাঁকে প্রথম তলা থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ৷ দীপ্তির মায়ের দাবি, মেয়ে তাঁকে এই অত্যাচারের কথা জানিয়েছিলেন৷ সে সময় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ক্ষমা চান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা হবে না বলে আশ্বাস দেন। ছেলেকে জন্ম দেওয়ার এক মাস পর, দীপ্তি নাকি তাঁর স্বামীর পরকীয়ার প্রমাণ পান বলেও অভিযোগ৷
এরপর তাঁর বাবা-মা নবজাতক-সহ তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় নিয়ে আসেন। প্রায় এক বছর পর, শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়িতে এসে অনুরোধ করেন যাতে বিষয়টি সামাজিকভাবে আলোচিত না হয় এবং তাঁরা দীপ্তির যত্ন নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। পরে স্বামী লিখিত নিশ্চয়তা দিলে যে তিনি আর ক্ষতি করবেন না, দীপ্তি আবার দিল্লিতে ফিরে যান।
আগের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, এফআইআর অনুযায়ী দুই-তিন বছর পর আবার নির্যাতন শুরু হয়। দীপ্তিকে নাকি অপমান করা হত, সামাজিকভাবে মানহানি করা হত, পারিবারিক অনুষ্ঠানে বাদ দেওয়া হত এবং প্রায়ই বাড়িতে একা ফেলে রাখা হত। তাঁর স্বামী ফোনে একাধিক পাসওয়ার্ড রাখতেন, যাতে দীপ্তি তা খুলতে না পারেন। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে, স্বামী দুবাইয়ে থাকার সময় তিনি ফোনটি খুলে নাকি অশ্লীল কনটেন্ট পান, যা নিয়ে আবার সংঘর্ষ ঘটে।
দীপ্তির মৃত্যুর দিন কী ঘটেছিল?
২৫ নভেম্বর সকালে, প্রায় ৭:৩০ মিনিটে দীপ্তি তাঁর মাকে ফোন করে জানান যে ছেলের মোবাইল ফোন নিয়ে তাঁর স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁর শাশুড়ি জানান যে তিনি নাকি বিমানবন্দরে ছিলেন, পাশাপাশি দাবি করেন যে তিনি জিম থেকে ফিরছিলেন। দুপুর নাগাদ পরিবারকে ফোনে জানান হয় যে দীপ্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
