বহরদাকে বলা হয় ধনকুবেরদের গ্রাম। এখানে এখনও এমন প্রাসাদের দেখা মেলে, যা শুধু মাত্র নিজের গঠনশৈলীর জন্যই সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। প্রচণ্ড গ্রীষ্মের দিনে এই হাভেলির ভেতর একেবারে সুশীতল, কোনও যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই। এমনকী কোনও কোনও ক্ষেত্রে তা এসির শীতলতাকেও হারিয়ে দিতে পারে।
জনজাতির কারিগরি—
এই হাভেলির প্রবীণ বাসিন্দা শম্ভুদয়াল শর্মা বলেন, স্থানীয় বঢ়ই জনজাতির কারিগরদের হাতে নির্মিত হয়েছিল এই বাড়ি। নির্মাণের সময়ই হাভেলির দেয়াল এমন ভাবে তৈরি হয়েছিল যাতে ভিতরে তাপ প্রবেশ করতে না পারে। দু’টি দেওয়ালের মাঝখানে মাটি ও পাথর দিয়ে ভরাট করা। পাথরের সঙ্গে মেশানো হয়েছিল চুন, আর তার ফলেই প্রচণ্ড গরমেও হাভেলির দেওয়াল ভেদ করে উত্তাপ ভিতরে প্রবেশ করে না। আবার শীতেও প্রবল শৈত্য গ্রাস করতে পারে না। শম্ভুদয়াল শর্মা জানান, প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই হাভেলির আবহাওয়া এমন যে বাইরে থেকে গরম বাতাস ঢুকলেও তা ঠান্ডা হয়ে যায়।
advertisement
স্থানীয় বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত শর্মা প্রাচীন এই হাভেলি সম্পর্কে জানান, দুই দেওয়ালে ফাঁক রেখে তৈরি এই বাড়ির ভিতরে উত্তাপ প্রবেশ করার প্রশ্নই ওঠে না। পাথর দিয়ে তৈরি এই হাভেলি পুরনো কারিগরদের নিপুণ কাজের নিদর্শন। এই বাড়ির ভিতরে গ্রীষ্মকালেও কুলারের বা ফ্যানের প্রয়োজন পড়ে না।
বর্তমানে হাভেলির বাসিন্দা নবল কুমার বলেন, ‘জুন মাসে এখানে সব থেকে গরম পড়ে। সেই প্রচণ্ড গরমেও আমাদের হাভেলি বেশ ঠান্ডা থাকে। আজও এই তিনতলা বাড়িতে একটাও ফ্যান নেই।’ তিনি জানান, গ্রীষ্মের দিনে গ্রামের মানুষ এই হাভেলিতে এসে সময় কাটান প্রচণ্ড গরম থেকে রেহাই পেতে!
