Plan B Ready: গ্যাস সিলিন্ডার ভুলে যান, সরকারের প্ল্যান বি বদলে দেবে ঘরের রান্নাঘরের খোলনলচে, বছরের পর বছর নিশ্চিন্ত
- Published by:Debalina Datta
- news18 bangla
Last Updated:
Plan B For Gas Cylindre: গড়পড়তা একটি পরিবার প্রতি মাসে একটি সিলিন্ডার ব্যবহার করে। ইন্ডাকশন রান্নার প্রচলন রান্নার খরচ ২০% থেকে ৩০% কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
advertisement
1/9

কলকাতা: ইরান- ইজরায়েল-আমেরিকা অস্থির যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতীয় হেঁশেলে টান! রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের ঘাটতি নিয়ে অনেকেই এখনও উদ্বিগ্ন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনও লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার ‘প্ল্যান বি’ নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে কাজ শুরু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি রান্নাঘরের আমূল পরিবর্তন ঘটবে। সরকার প্রতিটি রান্নাঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডারের বদলে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম দিয়ে রান্নাঘর চালানোর ব্যবস্থা করতে পারবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকার কোম্পানিগুলির সঙ্গে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক করেছে এবং তাদেরকে অবিলম্বে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে৷ Photo- Representative
advertisement
2/9
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে সম্প্রতি ডিপিআইআইটি সচিব, বিদ্যুৎ সচিব এবং ডিরেক্টর জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)-এর মধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ইন্ডাকশন হিটার এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সরকার রান্নার গ্যাস বা এলপিজির উপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে চায়, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা ভারতীয় রান্নাঘরকে সরাসরি প্রভাবিত না করে।
advertisement
3/9
পশ্চিম এশিয়ার গভীরতর সংকট ভারতকে তার জ্বালানি কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধ বেশিদিন ধরে চললে এলপিজি সাপ্লাই চেনে বিঘ্ন ঘটার ফলে এলপিজির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সরকারি সূত্র বলছে যে, ভবিষ্যতের যেকোনও চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদের আজ থেকেই প্রস্তুত থাকতে হবে। যুদ্ধ যদি বছরের পর বছর ধরেও চলে, আমাদের দেশের রান্নাঘরের আগুন যেন নিভে না যায়৷
advertisement
4/9
গ্যাস ঘাটতির কারণে ইন্ডাকশন হিটার ও ইলেকট্রিক কেটলির মতো পণ্যের চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। সরকার এগুলির উৎপাদন বাড়িয়ে কম দামে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে চায়। এছাড়াও এগুলির গুণগত মানও উন্নত করা প্রয়োজন। সূত্র থেকে জানা গেছে, এই উদ্দেশ্যে সরকার ব্যবসায়ীদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে।
advertisement
5/9
ভারতে বর্তমানে কোটি- কোটি পরিবার এলপিজি ব্যবহার করে। যদি প্রতিটি পরিবারে একটি ইন্ডাকশন স্টোভ থাকত, তবে তা পরিসংখ্যানের দিক থেকে একটি বিরাট বদল ঘটত৷ ভারত তার এলপিজি চাহিদার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ আমদানি করে। ইন্ডাকশন পাওয়ারের ব্যবহার বাড়ালে এই আমদানির জন্য ব্যবহৃত মূল্যে শত শত কোটি ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
advertisement
6/9
গড়পড়তা একটি পরিবার প্রতি মাসে একটি সিলিন্ডার ব্যবহার করে। ইন্ডাকশন রান্নার প্রচলন রান্নার খরচ ২০% থেকে ৩০% কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার আগামী ২-৩ বছরে রান্নার গ্যাসের চাহিদা অন্তত ২৫% কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে। এর ফলে ভারতের গ্যাসের বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
advertisement
7/9
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল: আমাদের কি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ আছে? উত্তর হলো হ্যাঁ! আজ ভারত শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে স্বনির্ভরই নয়, বরং উদ্বৃত্তের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে। ‘পিএম সূর্য ঘর মুফত বিজলি যোজনা’-র অধীনে লক্ষ লক্ষ বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল বসানো হচ্ছে। এর ফলে ইন্ডাকশন কুকার চালানো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হয়ে যাবে।
advertisement
8/9
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মতে, আমাদের জাতীয় গ্রিড এখন সন্ধ্যার ব্যস্ততম সময়েও ইন্ডাকশন লোড সহজেই সামলাতে সক্ষম। ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত কয়লার মজুদ রয়েছে এবং পুণর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি (সৌর ও বায়ু শক্তি) সক্ষমতার ক্ষেত্রে দেশটি বিশ্বে অগ্রণী।
advertisement
9/9
সিলিন্ডারের একটি বিকল্প প্রস্তুত আছে।সরকারের এই কৌশলটি শুধু বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ। গ্যাস পাইপলাইন বসানোর সময় ও খরচের তুলনায়, বিদ্যুৎ ইতিমধ্যেই প্রতিটি বাড়িতে সহজলভ্য। সরকার যদি ইন্ডাকশন হিটারের উৎপাদন বাড়াতে এবং এর দাম কমাতে সফল হয়, তবে গ্যাস সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা ভুলে যাওয়ার মতো বিষয় হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ যতদিনই চলুক না কেন, ভারত তার 'বৈদ্যুতিক ঢাল' অর্থাৎ প্ল্যান বি পুরোপুরি প্রস্তুত রাখছে!