প্রশাসনের গা ছাড়া মনোভাবের অভিযোগ যে কতখানি সত্যি, তার আরও প্রমাণ এবার সামনে এল৷ গত শনিবার গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ একটি নির্মাণ প্রকল্পের এলাকার ভিতরে ৭০ ফুট গভীর নালায় পড়ে যায় ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ি৷ ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কম থাকা এবং রাস্তায় যথাযথ পথ নির্দেশিকা না থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ৷
advertisement
এই দুর্ঘটনার ঠিক ১৫ দিন ওই একই জায়গায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল একটি ট্রাক৷ সেই ট্রাক চালকও ঘন কুয়াশার মধ্যে রাস্তার বাঁক বুঝতে পারেননি৷ ফলে সোজা পাঁচিল ভেঙে ওই গভীর নালার মধ্য গিয়ে পড়ে ট্রাকটি৷ এবার সেই ট্রাক দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে এল৷
সেই ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে, বিশালাকার ওই ট্রাকটি অবশ্য পাঁচিল এবং রাস্তার মাঝখানে আটকে গিয়েছিল৷ ফলে ট্রাকের সামনের জলে পড়ে গেলেও বরাতজোরে প্রাণে বাঁচেন ট্রাকচালক৷ দীর্ঘক্ষণ অন্ধকারের মধ্যে ওই ট্রাকের ভিতরেই আটকে ছিলেন তিনি৷ নয়ডার তরুণ ইঞ্জিনিয়ারকে বাঁচাতে মনিন্দর নামে যে ডেলিভারি এজেন্ট প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে জলে নেমেছিলেন, তাঁর দাবি সেদিনও তিনি এবং তাঁর সহকর্মীরা ওই ট্রাক চালককে উদ্ধার করেন৷
গত ৩১ ডিসেম্বর রাতের সেই দুর্ঘটনায় ট্রাকের ধাক্কায় নালাকে ঘিরে থাকা পাঁচিলটি ভেঙে যায়৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, এত বড় দুর্ঘটনার পর ওই পাঁচিল মেরামত তো করাই হয়নি, এমন কি রাস্তার ওই বাঁকে কোনও রিফ্লেক্টর অথবা পথ নির্দেশিকাও লাগানো হয়নি৷ ফলে ঘন কুয়াশার মধ্যে অনেক গাড়ি চালকই রাস্তার ওই বাঁকে এসে বিভ্রান্ত হচ্ছেন৷ গত শনিবার ঠিক একই ভাবে বিপদের মুখে পড়েন যুবরাজ মেহতা নামে ওই ইঞ্জিনিয়ার৷ তার উপর পাঁচিল ভাঙা থাকায় রাস্তা থেকে ছিটকে যুবরাজের গাড়ি সোজা গিয়ে নালার জলের মধ্যে পড়ে৷
ওই ট্রাকটির চালক গুরবিন্দর সিং-ও অভিযোগ করেন, রাস্তায় কোনও রিফ্লেক্টর অথবা নির্দেশিকা না থাকার কারণেই ঘন কুয়াশার মধ্যে পথের বাঁক বুঝতে পারেননি তিনি৷
জলে গাড়ি পড়ে যাওয়ার পরেও প্রায় দেড় ঘণ্টা বাঁচার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন ওই যুবক৷ নিজের বাবা এবং বন্ধুদের ফোন করে সাহায্য চান তিনি৷ অভিযোগ ঘটনাস্থলে পুলিশ, দমকল, রাজ্য এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দল পৌঁছলেও ওই যুবককে উদ্ধার করতে সময়মতো তৎপরতা দেখানো হয়নি৷ গাফিলতির জেরেই শেষ পর্যন্ত জলে ডুবে যুবরাজের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ তাঁর পরিবারের৷
