বর্তমানে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার পণ্যের উপর যুক্তরাষ্ট্রে ২০ শতাংশ, পাকিস্তানের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভিয়েতনামের উপর ২০ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সের উপর ১৯ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের ১৮ শতাংশ শুল্ক হার তাকে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় রপ্তানিকারক দেশের তুলনায় স্পষ্ট সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে চিনের সঙ্গে তুলনা করলে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী—বর্তমানে চিনা পণ্যের উপর আমেরিকায় প্রায় ৩৪ শতাংশ শুল্ক ধার্য রয়েছে, যা ভারতের প্রায় দ্বিগুণ।
advertisement
কীভাবে হল এই চুক্তি
গত ২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ফোনালাপের পরই এই শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফোনালাপের পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হচ্ছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়া তেল কেনা বন্ধ করবে, কথা দিয়েছেন মোদি৷ ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, রাশিয়ার পরিবর্তে আমেরিকা, মূলত ভেনিজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত৷ সেকারণেই নাকি শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছে আমেরিকা৷
‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এর পোস্টে ট্রাম্প জানান, “প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁর অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অবিলম্বে একটি বাণিজ্য চুক্তি (শুল্ক সমঝোতা) সেরে নিতে সম্মত হয়েছি। এর আওতায় ভারতের উপর আমেরিকার পারস্পরিক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশ হবে। একই ভাবে ভারতও আমেরিকার জন্য তাদের শুল্ক সংক্রান্ত এবং অন্য (বাণিজ্যিক) প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে শূন্যে নামিয়ে আনতে উদ্যোগী হবে।”
শুল্ক কমানোয় ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লেখেন, ‘‘‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ পণ্যের উপর শুল্ক কমে ১৮ শতাংশ হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এই ঘোষণার জন্য ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ।”
এই চুক্তির আগে ভারত ছিল বিশ্বের অন্যতম উচ্চ শুল্ক আরোপিত বড় অর্থনীতি। গত বছরের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল, এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল পারস্পরিক শুল্ক এবং বাকি ২৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক। ব্রাজিলও একই ধরনের ৫০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়েছিল৷
বর্তমানে ব্রাজিলের উপর শুল্ক অপরিবর্তিত থেকে ৫০ শতাংশেই রয়েছে। মায়ানমার ও লাওসের উপর ৪০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার উপর ৩০ শতাংশ এবং মেক্সিকোর উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমনকি কানাডা (৩৫ শতাংশ) ও সুইজারল্যান্ডের (৩৯ শতাংশ) মতো উন্নত দেশগুলিও ভারতের তুলনায় অনেক বেশি শুল্কের সম্মুখীন।
বিশ্বের খুব কম দেশই বর্তমানে ভারতের চেয়ে কম শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের উপর শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলির উপর আগের বাণিজ্য চুক্তির কারণে প্রায় ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই বাণিজ্য চুক্তি ভারতকে বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
