এদিন মানিক সরকার বলেন, "হাড়গোড় ভেঙে দেব, তালিবানের মতো আচরণ করুন, এসব কথা যিনি বলেছে খারাপ বলেছেন। যাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন। তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। মাথা নত করছেন না। তাদের সাহস আছে৷ আমি তাদের অভিনন্দন জানাই।" আগামিদিনে ত্রিপুরায় বিজেপিকে রুখতে সিপিএম-তৃণমূল জোট হবে কি হবে না তাই নিয়ে যখন জোর শোরগোল, ঠিক তখনই মানিক সরকারের এই মন্তব্য প্রচণ্ড তাৎপর্যপূর্ণ-মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পর্যবেক্ষকদের মত, মানিক সরকার একই সঙ্গে দুটি কথা বুঝিয়ে দিচ্ছেন। এক দিকে তিনি ভোটের আগে বঙ্গে চালু বিজেমূল তত্ত্বকে সমূলে নস্যাৎ করছেন, অন্য দিকে তিনি জোটের দরজাটা সরাসরি বন্ধ করছেন না।
advertisement
ঘটনার সূত্রপাত দিন কয়েক আগে। বুধবার সন্ধ্যায় আর্শীবাদ যাত্রার মিছিল শেষ হওয়ার পর, বিলোনিয়া পুরাতন টাউন হলে এক সভাতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে , বিধায়ক অরুণ চন্দ্র ভৌমিক বলেন, "তৃণমূল নেতারা এয়ারপোর্টে নামলেই তালিবানি কায়দায় আক্রমণ করতে হবে।"
এ দিন মানিক সরকার প্রকাশ্যেই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। অরুণ ভৌমিক সম্পর্কে নাম না করে তাঁর মন্তব্য, যিনি এই কথা বলছেন, তিনি তো বিধানসভার মধ্যে কথা বললে তাঁর দলের লোকেরা তার হাত ধরে বসিয়ে দেয়।
উল্লেখ্য ভোটের আগে বাংলায় সিপিএম বিজেপি-এবং তৃণমূলকে একাসনে বসিয়ে প্রতিরোধ করেছিল। মানিক সরকার ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিয়েছিলেন তখন। বাংলায় প্রচারে এসে বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ বলে চিহ্নিত করেছিলেন তিনি। এখন ভোটপর্ব মিটতে সিপিএম-এর আত্মসমালোচনা শুরু হতেই দলীয় নেতারা মেনে নিয়েছেন বিজেমূল তত্ত্বে ফাঁক ছিল বিস্তর। মানুষ এই তত্ত্ব মেনে নেননি। মানিক সরকার চিরব্যতিক্রম, দিলখোলা, তীক্ষ্ণ, এখনও মন্তব্যে তেমনটা বুঝিয়ে দিলেন।
