Karnataka সরকারের নতুন মেনস্ট্রুয়াল লিভ পলিসি ২০২৫ অনুযায়ী, মাসিক চলাকালীন মহিলা কর্মীরা প্রতি মাসে এক দিন করে বেতনসহ ছুটি নিতে পারবেন। ১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সরকারি নির্দেশিকায় এই নীতির খুঁটিনাটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮ থেকে ৫২ বছর বয়সি মাসিক হওয়া মহিলা কর্মীরা এই ছুটির আওতায় থাকবেন। স্থায়ী, চুক্তিভিত্তিক ও আউটসোর্সড—সব ধরনের সরকারি কর্মীই এর অন্তর্ভুক্ত। এমনকি আইটি, গার্মেন্টস ও কারখানা-সংক্রান্ত কিছু বিভাগেও রাজ্যের কাঠামো অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ নিয়ম সাজানো শুরু হয়েছে।
advertisement
শিক্ষা দফতরের সেকশন অফিসার শোভা কে-র কথায়, এই নীতি বাস্তবায়নের সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রশ্নও আসছে। তাঁর মতে, মহিলা কর্মীরা ছুটি নিতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু জরুরি ফাইল, আদালতের মামলা বা সময়সীমাবদ্ধ কাজ থাকলে আগাম জানিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতেই হবে। নিয়ম অনুযায়ী, এই ছুটি অন্য কোনও ছুটির সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না এবং পরের মাসে বহনও করা যাবে না। নির্দিষ্ট মাসে ব্যবহার না করলে ছুটি বাতিল হয়ে যাবে। আবেদন করতে হবে ইলেকট্রনিক এমপ্লয়ি ডেটাবেস সিস্টেমে, এবং ক্যাজুয়াল লিভ অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষই এই ছুটিও মঞ্জুর করবেন। কোনও মেডিক্যাল সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
‘আমিও শেষ দেখে ছাড়ব’! আদালতে যাওয়ার পথে বললেন মিমিকে হেনস্থার দায়ে গ্রেফতার হওয়া তনয় শাস্ত্রী
গদাগ জেলার এক তালুক অফিসে চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মীনাক্ষী হুগারের মতে, সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি এসেছে নথিভুক্তির পদ্ধতিতে। হাজিরা খাতায় মেনস্ট্রুয়াল লিভের জন্য আলাদা কলাম রাখা হচ্ছে। এর ফলে ছুটির কারণ নিয়ে জল্পনা বা ব্যক্তিগত অনুমান কমবে বলেই মনে করছেন অনেকেই। প্রশাসনের দাবি, এতে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে এবং অপব্যবহারের আশঙ্কাও কমবে।
নীতিমতে, বছরে সর্বোচ্চ ১২ দিন মেনস্ট্রুয়াল লিভ পাওয়া যাবে—প্রতি মাসে এক দিন, তার বেশি নয়। সরকারি মহলের বক্তব্য, এটি একটি কাঠামোবদ্ধ সুবিধা, কোনও খোলা ছাড় নয়।
অনিতার মতো বহু মহিলা কর্মীর কাছে এই ছুটি বাস্তব স্বস্তি এনে দিলেও কাজের চাপ পুরোপুরি কমায় না। তবে তাঁর কথায়, “সিস্টেম অন্তত এটা মানছে যে আমরা শারীরিক ভাবে কীসের মধ্যে দিয়ে যাই।” কর্নাটকের এই নীতির ফলে মেনস্ট্রুয়াল লিভ আর নীরব সমঝোতা নয়। এখন তার নির্দিষ্ট ফর্ম, নিয়ম ও পরিচিত নাম রয়েছে—যা সরকারি কর্মক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।
