কেরলের পরিবহণমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁরই স্ত্রী৷ কে বি গণেশকুমারের স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁদের বাড়ির বেডরুমেই স্বামীকে অন্য এক মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলেন তিনি৷
৬০ বছর বয়সি কে বি গণেশকুমার কেরল কংগ্রেস (বি) দলের নেতা৷ পরিবহণমন্ত্রীর এই কেচ্ছাকে হাতিয়ার করে ভোটের আগে বাম গণতান্ত্রিক সরকারকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট৷ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভোটের মুখে বিরোধীদের অস্ত্র ভোঁতা করতে গণেশকুমারকে ইস্তফা দেওয়ার নির্দেশ দিতে চলেছেন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন৷
advertisement
গণেশকুমারের স্ত্রী বিধু মেননের অভিযোগ, ২০১৪ সালে তাঁদের বিয়ে হয়৷ কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কে সমস্যার সূত্রপাত হয়৷ ২০২৩ সালে গণেশকুমার মন্ত্রী হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বলে অভিযোগ করেছেন মন্ত্রীর স্ত্রী৷ তাঁর আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, সম্প্রতি তাঁদের বাড়ির বেডরুমেই অন্য এক মহিলার সঙ্গে নিজের স্বামীকে আপত্তিকর অবস্থায় হাতেনাতে ধরেন তিনি৷ প্রমাণ রাখতে দু জনের ছবিও তুলতে শুরু করেন তিনি৷ তখন মন্ত্রীর সহকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ গণেশকুমারের স্ত্রীর৷
গোটা ঘটনার কথা মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের মেয়ে বীণা বিজয়নকেও জানান মন্ত্রীর স্ত্রী৷ এর পরই মন্ত্রীর কেচ্ছার কথা জানাজানি হয়৷ হাতেনাতে ধরার পরার পর থেকেই গণেশকুমার তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বাঁচার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন মন্ত্রীর স্ত্রী৷ বিধু মেনন আরও অভিযোগ করেছেন, অভিযোগ জানালেও পুলিশ নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে৷ এলডিএফ সরকার অথবা গণেশকুমারের ভাবমূর্তি খারাপ করার জন্য তিনি এই অভিযোগ করছেন না বলেও দাবি করেছেন কেরলের পরিবহণমন্ত্রীর স্ত্রী৷
পাল্টা পরিবহণ মন্ত্রী গণেশকুমারের দাবি, রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বিরোধীরা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কেচ্ছা ছড়াচ্ছে৷ গণেশকুমার বলেন, অভিযোগ সত্যিই হোক অথবা মিথ্যে, বিষয়টি একান্তই আমার ব্যক্তিগত৷ এর মধ্যে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই৷ দমে না গিয়ে গণেশকুমার বলেন, ‘ভালবাসা কোনও অপরাধ নয়৷ যে কেউ ভালবাসায় জড়িয়ে পড়তে পারেন৷ তা চলতে থাকবে৷’ আত্মবিশ্বাসী গণেশকুমারের দাবি, তিনি কোনওদিন কোনও দুর্নীতিতে জড়াননি৷ ফলে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রের ভোটাররা এই ধরনের অভিযোগকে বিশ্বাস করবেন না৷
২০১৩ সালেও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগে ইউডিএফ সরকার থেকে পদত্যাগ করেন তৎকালীন মন্ত্রী গণেশকুমার৷ তাঁর প্রথম স্ত্রী যামিনী থানকাচি গণেশকুমারের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহ এবং পরকীয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন৷ পেশায় চিকিৎসক যামিনী মালয়লম সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা গণেশকুমারের বিরুদ্ধে তৎকালীন মন্ত্রী উমেন চান্ডির কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন৷ গণেশকুমার সেবারেও ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন৷ সেই সময়ও প্রথম স্ত্রী যামিনীর বিরুদ্ধে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা এবং রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছিলেন গণেশকুমার৷
পাথানাপুরম কেন্দ্র থেকে পর পর পাঁচ বার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন গণেশকুমার৷ প্রায় ১০০টি মালয়লম সিনেমায় অভিনয় করা গণেশকুমার কেরল কংগ্রেস (বি)-র চেয়ারম্যান৷ কেরল কংগ্রেস ভেঙে তৈরি হয় কেরল কংগ্রেস (বি)৷ দলের একমাত্র বিধায়ক এবং মন্ত্রী গণেশকুমার৷
মন্ত্রীর এই কেচ্ছা নিয়েও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধীরা৷ কেরলের বিরোধী দলনেতা ভি ডি সথীসন বলেন, ‘একজন মন্ত্রীর স্ত্রী যদি বিচার না পান তাহলে রাজ্যের সাধারণ মহিলাদের কী হবে? মুখ্যমন্ত্রীকে এর উত্তর দিতে হবে৷’
