এটাই যখন মোটের উপরে গোটা দেশের পরিস্থিতি, সেখানে কেরলের একটি পরিবার গ্যাসের এই সঙ্কট নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত নয়৷ এমন নয় যে তারা কয়লা অথা কাঠ ব্যবহার করে রান্না করছে৷ কেরলের এই পরিবারটির জ্বালানির জোগান কী ভাবে হচ্ছে, তা জানলে অনেকেই অবাক হবেন৷
জানা গিয়েছে, কেরলের আলাপ্পুঝার বাসিন্দা ওই মহিলা তাঁর পরিবারের যাবতীয় রান্না করার জন্য মিথেন গ্যাস ব্যবহার করেন৷ সেই গ্যাসের জোগানও হয় তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই৷
advertisement
দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালে৷ রেথনাম্মা নামে আলাপ্পুঝার বাসিন্দা ওই মহিলা এবং তাঁর পরিবার বাড়িতে পানীয় জলের জন্য একটি গভীর নলকূপ তৈরির সিদ্ধান্ত নেন৷ সেই মতো শুরু হয় মাটি খোঁড়ার কাজ৷
কিন্তু প্রায় ৭৫ ফুট মাটি খুঁড়ে ফেলার পরেও পরিষ্কার জলের খোঁজ মেলেনি৷ ফলে পরিষ্কার জলের খোঁজ না পেয়ে ওই গর্ত ফের বুজিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়৷ কিন্তু সেই গর্ত বুজিয়ে দেওয়ার সময়ই ঘটে অবাক করে দেওয়া কাণ্ড৷
রেথনাম্মার কথায়, নলকূপের জন্য খোঁড়া গর্ত বুজিয়ে দেওয়ার সময় সেখানে দাঁড়ানো একজন দেশলাই জ্বালিয়েছিলেন৷ তখনই ওই গর্তের ভিতর থেকে আগুন জ্বলে ওঠে৷ আচমকা এই আগুন দেখে উপস্থিত প্রত্যেকেই ঘাবড়ে যান৷
অর্থ খরচ করে খোঁড়াখুড়ি করার পর জলের খোঁজ না পেলেও সেই টাকা পুরো জলে দিতে চাননি রেথনাম্মা৷ নলকূপের জন্য খোঁড়া গর্তের মুখ থেকে পাইপ লাগিয়ে তা রান্নাঘরে নিয়ে গ্যাসের সঙ্গে যুক্ত করেন তিনি৷ রেথনাম্মা বলেন, প্রথম দিন ওই ভাবেই আমি ব্ল্যাক কফি বানাই৷ কোনওরকম গন্ধ আমাদের নাকে আসেন, কোনও অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি৷
প্রথম দিন অবশ্য বিপদের আশঙ্কায় কাঁটা হয়েছিলেন রেথনাম্মা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা৷ দুর্ঘটনার ভয়ে বালতি ভরে ভরে জলও তৈরি রেখেছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু কোনও অঘটন ঘটেনি৷ পরের দিন আবারও একই পদ্ধতিতে গ্যাস জ্বালিয়ে নির্বিঘ্নেই রান্না করা হয়৷ তার পর থেকে এখনও পর্যন্ত এ ভাবেই দৈনন্দিন রান্নার কাজে ওই প্রাকৃতিক মিথেন গ্যাসই ব্যবহার করেন রেথনাম্মা এবং তাঁর পরিবার৷ রেথনাম্মার স্বামী রমেশানের কথায় এই পদ্ধতিতে রান্না করে বছরে এলপিজি সিলিন্ডার প্রায় কিনতেই হয় না তাঁদের৷ ফলে বছরে প্রায় দশ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়৷
