এদিকে ফাটল বাড়ছে বাড়িগুলিতে। এসবের মধ্যেই মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে সবচেয়ে বিপজ্জনক চিহ্নিত হওয়া কয়েকটি হোটেল ভাঙার কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তা শুরু করা যায়নি। ৬৭৮টি বাড়ি বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে, আগামী ১৬ই জানুয়ারি যোশী মঠ মামলা শুনবে সুপ্রিমকোর্ট। শুনানির দিন ধার্য করতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় বলেছেন, মামলাকারী অন্য কোন সংস্থার কাছেও আবেদন করতে পারেন।
advertisement
যোশীমঠে তৎপরতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার। একদিকে যখন যোশীমঠে ৬০০টির বেশি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে, তখন নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে নারাজ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, "মানুষের বাসস্থান কতটা হয়, সবার বোঝা উচিত। আচমকা আমাদের সরে যেতে বলা হচ্ছে কিন্তু আমরা কোথায় যাব! ঘর পরিবারের সমস্ত জিনিস নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। অস্থায়ীভাবে যেখানে থাকার কথা বলা হচ্ছে। সেটি একটা কামরা মাত্র। সেখানে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের নিয়ে থাকা এবং ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া মোটেই সম্ভব নয়। তাই যত বিপদ হোক প্রশাসনের উচিত আগে সঠিক বন্দোবস্ত করা।"
সব মিলিয়ে কার্যত অসহায় যোশীমঠের কয়েক হাজার মানুষ। ঠিক ছিল, মঙ্গলবার থেকে উত্তরাখণ্ডের যোশীমঠে বিপজ্জনক বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হতে চলেছে। প্রথমে ভাঙা হবে বিপজ্জনক হোটেলগুলি। কিন্তু স্থানীয় মানুষের অসহযোগিতায় নির্দিষ্ট সময়ের পরেও শুরু করা যায়নি হোটেল ভাঙার কাজ। স্থানীয় প্রশাসন জানাচ্ছে এই এলাকার হোটেল এবং ঘরগুলি ভাঙা হবে বুলডোজার দিয়ে। কোন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হবে না।
এ দিকে, আজ যোশীমঠ পরিদর্শনে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি দল। রুড়কির সিবিআরআই-এর তত্ত্বাবধানে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু হবে। গতকাল যোশীমঠ পরিদর্শন করেছে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের একটি দল। পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছেন ভূবিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন, শিক্ষক নিয়োগে আরও গতি, পঞ্চম দফার ইন্টারভিউ নেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের
আরও পড়ুন, আবাস যোজনা দুর্নীতিতে এবার মুখ খুললেন দেব, তারকা সাংসদের মুখে 'অন্য' সুর! যা বললেন ঘাটালে...
যোশীমঠের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার পাশাপাশি সুপারিশ দেবেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যোশীমঠের আসন্ন বিপদ সম্পর্কে অনেক আগেই সতর্ক করেছিলেন ভূবিজ্ঞানীরা। যদিও তাঁদের সতর্কবার্তায় আমল দেওয়া হয়নি সেই সময়ে।
রাজীব চক্রবর্তী
