সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার যে ভিডিও সামনে এসেছে, সেখানে দেখা গিয়েছে, সাংবাদিকরা যখন তাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘‘কী হয়েছিল? কেন মেয়েটিকে আপনি খুন করলেন? আপনারা কি কাপল ছিলে?’ তখন অভিযুক্ত ঠান্ডা ভাবে উত্তর দিয়েছেন, ‘‘কিছুই হয়নি৷ ছাড়ুন না৷ কিছুই হয়নি৷’’ শেষে পীযূষ জানিয়েছে, ‘‘আমি সব বলব সকলকে৷ আমি বলব৷ সময় আসুক৷’’
advertisement
বুধবার তদন্তকারী পুলিশকর্মীরা তাঁকে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে দ্বারকাপুরীর তাঁর ওই ভাড়া বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল৷ এই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হয়েছিল এমবিএ ছাত্রীর মৃতদেহ৷
আরও পড়ুন :রাজ্যসভাতেও ‘শূন্য’ হতে চলেছে বামেরা! পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ আসন খালি, কী পরিকল্পনা তৃণমূলের?
দ্বারকাপুরী থানার এসএইচও মণীশ মিশ্র বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত যে সমস্ত তথ্য দিয়েছে, তা-ই যাচাই করতে ঘটনাস্থলে আসা৷ মিশ্র বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদের সময় অভিযুক্ত যে তথ্য দিয়েছে,আমরা তা ঘটনাস্থলে এনে তা যাচাই করেছি। একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে৷’’
এএনআই-কে দেওয়া এক পৃথক বিবৃতিতে, অফিসার আরও বলেন যে, ‘‘খুনের পরে লেখা একটি চিঠি ধৃতের পার্স থেকে উদ্ধার করা হয়েছে৷ সেখানে দু’জনের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কথা লেখা ছিল৷’’
১০ ফেব্রুয়ারি সকালের দিকে ছাত্রীটি তাঁর আধার কার্ড সংশোধন করার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। তাঁর বাবা তাঁকে কালেক্টরেটের কাছে দিয়ে এসেছিলেন। পরে সে তাঁর ছোট বোনকে ফোন করে জানায় যে সে তাঁর সহপাঠী পীযূষ ধমনোটিয়ার সাথে জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছে এবং রাত ১১ টার মধ্যে ফিরে আসবে।
রাত ১১ টার দিকে, মেয়েটির ফোন থেকে একটি মেসেজ আসে৷ সেখানে লেখা ছিল, ‘বাবাকে বোলো ও আর বাড়ি ফিরবে না।’’ তারপরে মেয়েটির ফোন কিছুক্ষণের মধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে জানতে পারেন যে, কলেজের একটি গ্রুপে দুজনের ১১টি আপত্তিকর ভিডিও শেয়ার করা হয়েছিল ওই সময়, মেয়েটির মোবাইল থেকে। একই ক্লিপ মহিলার হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে আপলোড করা হয়েছিল এবং তাঁর ফোনে পরিচিতিদের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
এক বিবৃতিতে পুলিশের কাছে ধমনোটিয়া দাবি করেছে যে, সে ওই তরুণীকে বিয়ে করতে চেয়েছিল৷ কিন্তু ওই তরুণী সম্প্রতি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিচ্ছিল৷ গত প্রায় ১৫ দিন ধরে তাঁর সাথে কথা বলেনি। ধমনোটিয়ার দাবি, কোনও ডেটিং ওয়েবসাইটে অন্য ছেলের সঙ্গে কথাও বলছিল মেয়েটি। এই বিষয়টি নিয়েই ঘটনার দিন দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
খুনের পর, পীযূষ মুম্বই পালিয়ে যায়, পানভেলে হোটেলে থাকেন। দিনভর মেট্রো স্টেশনে ঘুরে বেড়ায় এবং প্রমাণ নষ্ট করার জন্য ছাত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলে। পুলিশ যখন পানভেলে পৌঁছয়, তখন তারা দেখে হোটেলের এক কোণে সে কালা জাদু করে ছাত্রীর আত্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছে। মনে করা হচ্ছে, ঘটনার পর থেকে ধমনোটিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং মহিলার আত্মার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিল।
তার জবানবন্দিতে, ধমনোটিয়া বলেছে যে তাঁর বান্ধবী একটি অ্যাপের মাধ্যমে অন্য কারও সাথে কথা বলছিল, যার ফলে এই ঘটনাটি ঘটেছে। হত্যার পরে, ধমনোটিয়া মদ্যপান করে এবং কিছুক্ষণ মৃতদেহের পাশে বসে থাকে। অভিযুক্ত আরও বলেছে যে, সে ওই অ্যাপার্টমেন্টেই মেয়েটির দেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে। সেখানে বেশ কয়েকটি দড়ির টুকরো ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় যে মহিলার হাত-পা বাঁধা হয়েছিল।
