মাস কয়েক আগেই ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তিকালীন মুখ্য উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূস৷ দাবি করেছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ‘বৃহত্তর বাংলাদেশের অংশ’৷ সর্বসমক্ষে আনা হয়েছিল ‘গ্রেটার বাংলাদেশের’ বিতর্কিত মানচিত্রও৷ যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বের ৭টি রাজ্যকে বাংলাদেশের বলে দেখানো হয়েছিল৷ পরে অবশ্য সুর নরম করে ইউনূস গত বছর বলেন, ‘‘বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সাতটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের জন্য একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা উচিত। আলাদা ভাবে নয়, একসাথে কাজ করলেই আমরা আরও বেশি লাভবান হতে পারব।’’
advertisement
উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মহম্মদ ইউনূস, সেখানেই চিকেনস নেকের বিকল্প, অর্থাত্ চিকেনস নেক বাইপাস করে একটি সড়ক পথ তৈরির কথা উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এই অবস্থায় ভারত হাতিয়ার করল রেলকে। পশ্চিমবঙ্গে মাটির নীচে বা আন্ডারগ্রাউন্ডে ৪০ কিমি স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এই আন্ডার গ্রাউন্ড রেললাইন উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাকি দেশের নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখবে। এই স্ট্র্যাটেজিক করিডর তৈরি হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেনস নেক-এ।
আরও পড়ুন:’CPIM-এর কাছে গরু, কয়লা, সোনা পাচারের কালো টাকা নেই!’ চন্দননগরে কড়া ভাষায় আক্রমণ সেলিমের
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কথায়, ‘‘উত্তরপূর্ব ভারতকে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে যোগাযোগ মজবুত করতে ৪০ কিমি স্ট্র্যাটেজিক করিডরের প্ল্যান রয়েছে। উপরে থাকা ডাবল লাইনকে ফোর লাইন করে দেওয়া হবে। দু’টি রেললাইন থাকবে মাটির নীচে।’’ মোট ৬টি লাইন, ৪টি থাকছে উপরে ও দু’টি মাটির তলায় বা আন্ডার গ্রাউন্ডে। নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব, চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার হিতেন্দ্র গোয়েল জানান, এই রেললাইনগুলি তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত চলবে। চেতন শ্রীবাস্তবের কথায়, ‘‘নিরাপত্তার দিক থেকে এই রেললাইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’ রেলের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, এই প্রকল্পের কাজ যখন শেষ হবে, এটি ৬ লাইনের স্ট্র্যাটেজিক করিডর হয়ে যাবে।
