জিআরএসই-র ইতিহাসে এই প্রথম একসঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-প্ল্যাটফর্ম হস্তান্তর করা হল। এর ফলে সংস্থার উৎপাদন ক্ষমতা, সময়মতো কাজ শেষ করার দক্ষতা এবং একসঙ্গে একাধিক জটিল প্রকল্প সামলানোর সক্ষমতা আরও একবার প্রমাণিত হল।
advertisement
এই তিনটি জাহাজ হস্তান্তরের মাধ্যমে জিআরএসই-র তৈরি যুদ্ধজাহাজের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১৮-এ। এর মধ্যে ৮০টি ইতিমধ্যেই ভারতীয় নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজগুলি গ্রহণ করেন রিয়ার অ্যাডমিরাল গৌতম মারওয়াহ এবং কমোডর শিশির দীক্ষিত। (এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য, কমোডর দীক্ষিতের পদবি CSO (Tech), HQSNC হিসেবে সংশোধিত।)
প্রোজেক্ট ১৭এ-এর অধীনে তৈরি দুনাগিরি একটি অত্যাধুনিক গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট। শক্তিশালী অস্ত্র ও আধুনিক রাডার ব্যবস্থায় সজ্জিত এই যুদ্ধজাহাজ আকাশ, জল ও জলের নীচ—তিন ক্ষেত্রেই একযোগে অভিযান চালাতে সক্ষম।
সংশোধক হল বড় আকারের সার্ভে ভেসেল, যা সমুদ্রতল সমীক্ষা, উপকূল ও বন্দর সংক্রান্ত নকশা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। প্রয়োজনে এটি হাসপাতাল জাহাজ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
অগ্রয় একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট। উপকূলবর্তী এলাকায় শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও আক্রমণের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই জাহাজে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার।
একসঙ্গে তিনটি যুদ্ধজাহাজ হস্তান্তরের ঘটনা প্রমাণ করে, দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে জিআরএসই এখন অন্যতম ভরসাযোগ্য স্তম্ভ। বর্তমানে সংস্থাটি আরও একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও টহল জাহাজ নির্মাণের কাজ করছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি বিদেশে রপ্তানির জন্যও নির্ধারিত।
কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী জাহাজ নির্মাণ সংস্থা আবারও দেখিয়ে দিল—দেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের পথ।
