ঠান্ডায় বেরোলে সাপের শরীরে কী হয়? শীতে ২৪ ঘণ্টা সাপেরা কী করে? জানলে শিউরে উঠবেন!
এই উদ্যোগের গুরুত্ব কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ নয়। চেনাব নদী ইন্দাস অববাহিকার অংশ, যা কার্যত পাকিস্তানের জলজীবনের মূল ভরকেন্দ্র। পাকিস্তানের মোট জলের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ আসে পশ্চিম দিকের নদীগুলি থেকে, যেগুলি ভারতের ভূখণ্ড পেরিয়ে সে দেশে প্রবেশ করে। পাকিস্তানের কৃষির ৯০ শতাংশেরও বেশি এই অববাহিকার উপর নির্ভরশীল, এবং দেশের প্রায় সম্পূর্ণ বাঁধ ও ক্যানাল ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে এই জলের ভিত্তিতেই। বাস্তবে বলা যায়, পাকিস্তানের দশজন মানুষের মধ্যে ন’জনের জীবনযাত্রা এমন জলের উপর নির্ভরশীল, যা প্রথমে ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই কারণেই চেনাব সংক্রান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ ইসলামাবাদের নজরে থাকে।
advertisement
এই চার প্রকল্পের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল কিস্তওয়ারে অবস্থিত পাকাল ডুল জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ১,০০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি চেনাব অববাহিকার সবচেয়ে বড় এবং ১৬৭ মিটার উচ্চতায় এটি ভারতের সর্বোচ্চ বাঁধ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এটি পাকিস্তানে প্রবাহিত পশ্চিম নদীর উপর ভারতের প্রথম স্টোরেজ প্রকল্প। চেনাবের একটি উপনদীর উপর নির্মিত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮ সালের মে মাসে। ইন্দাস জলচুক্তি কার্যত স্থগিত অবস্থায় থাকায়, কেন্দ্র এখন পাকাল ডুলকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি জলপ্রবাহের সময় নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাও ভারতের হাতে আসবে, যা নিয়ে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন।
এর পাশাপাশি কিস্তওয়ার জেলাতেই রয়েছে কিরু প্রকল্প। ১৩৫ মিটার উচ্চতার এই বাঁধটি চেনাব নদীর উপর একটি রান-অফ-দ্য-রিভার প্রকল্প হলেও, এর কৌশলগত গুরুত্ব নিহিত রয়েছে উজান ও ভাটির অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে এর সংযুক্তিতে। কেন্দ্র কিরু প্রকল্পের ক্ষেত্রেও ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, যাতে পাকাল ডুল ও কিরু একসঙ্গে চালু হয়।
এই পরিকল্পনার তৃতীয় স্তম্ভ হল কওয়ার প্রকল্প। চেনাব নদীর উপর নির্মিত এই রান-অফ-দ্য-রিভার বাঁধটির উচ্চতা ১০৯ মিটার। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং ধাপ সম্পন্ন হয়, যখন নির্মাণকাজের সুবিধার্থে চেনাব নদীর গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাও পাকিস্তানে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। এখন কেন্দ্র নির্দেশ দিয়েছে, কওয়ার প্রকল্প ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে কমিশন করতে হবে, ফলে এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা চূড়ান্ত হয়ে গেল।
