আসলে ইতাঘাটি সীমান্ত ফাঁড়ির অন্তর্গত এলাকায় গরু পাচারের একটি গোপন সূত্র আগেই BSF-এর কাছে পৌঁছেছিল। সেই মোতাবেক ৮৮তম ব্যাটালিয়ন তৎপর হয়ে ওঠে এবং বিশেষ অভিযানের ছক কষা হয়। এরপরই সীমান্তের প্রতিটি ডিউটি পয়েন্টে জওয়ানদের প্রস্তুত রাখা হয়।
advertisement
যখন চোরাচালানকারীরা সীমান্ত বেড়ার কাছাকাছি চলে আসে, তখন BSF জওয়ানরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে। পরিস্থিতি আঁচ করেই চোরাচালানকারীরা তড়িঘড়ি পালিয়ে যায়। যদিও তারা পালিয়ে গেলেও, চোরাচালান করে আনা ৫টি মহিষ ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে BSF।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই নদিয়া জেলার নারসারিপাড়া সীমান্ত ফাঁড়িতে মোতায়েন ১৪৬তম ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ৮.২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে। পাশাপাশি ১৪৩তম ব্যাটালিয়ন একটি পৃথক অভিযানে প্রায় ৯১ হাজার টাকার নিষিদ্ধ ওষুধের একটি চালান জব্দ করে, যা চোরাচালানের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে অনুমান।
এইদিন উত্তর ২৪ পরগনাতেও ঘটল আরও একটি বড় ঘটনা। এখানে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। কিন্তু BSF-এর কড়া নজরদারিতে তারা ধরা পড়ে যায় এবং তাদের অবিলম্বে সীমান্ত থেকে ফেরত পাঠানো হয়।
BSF-এর দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হল সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ করা। আমাদের জওয়ানরা সবসময় সতর্ক অবস্থানে থাকে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি করে না।”
এই ঘটনাগুলি প্রমাণ করে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা শুধু জোরদারই হয়নি, বরং গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারির ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। BSF এখন যে কোনো ধরনের তৎপরতা বা অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ঘনঘন অনুপ্রবেশের চেষ্টার রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে সীমান্তে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ছক ভেস্তে দিয়ে, প্রতিদিনই BSF নতুন সফলতা দেখাচ্ছে, দেশের নিরাপত্তায় অটল থেকে।
এ যেন এক অনবদ্য নজির—যেখানে সময়মতো তথ্য, সঠিক প্রস্তুতি এবং সাহসী পদক্ষেপ মিলিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী প্রমাণ করল, সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপোস করা হবে না।
