২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে গ্রেফতার হয় কাশ্মীরের সাবির আহমেদ লোন। দীর্ঘ কারাবাসের পর ২০১৯ সালে জেলমুক্ত হন তিনি। মুক্তির পর থেকেই আবার জঙ্গি কার্যকলাপ সংগঠিত করার পরিকল্পনা শুরু করেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, মুক্তির পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর পুনরায় যোগাযোগ তৈরি হয়। তাদের নির্দেশেই ২০১৯ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে যান লোন, সেখানে বসে লস্করের একটি সক্রিয় মডিউল গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।
advertisement
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের মাটিতে বসেই এদেশে সন্ত্রাসবাদী হামলার ছক কষা শুরু হয়। জামাতপন্থী বাংলাদেশিদের সাহায্যে সেখানে স্লিপার সেল তৈরি করা হয়। পাশাপাশি, ভারতে অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে থাকেন লোন। এই যোগাযোগ বিস্তারের সময়ই মালদার উমর ফারুকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৯ সালের শেষ দিকে মালদার মহদিপুর সীমান্তের একটি গ্রামে সাবির লোন ও উমর ফারুকের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ রেখে মডিউল তৈরির কাজ এগিয়ে নিয়ে যান লোন। এমনকি ২০২০ সালেও মালদার কোনও এক সীমান্তবর্তী গ্রামে তাঁদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে লোনের পাঠানো স্লিপার সেলের সদস্যরা ভারতে ঢোকার পর তাঁদের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য লজিস্টিক সহায়তার দায়িত্ব নিতেন উমর ফারুক। গত বছর দু’বার বাংলাদেশে গিয়েছিলেন উমর—এমন তথ্যও হাতে পেয়েছে পুলিশ। যদিও বিষয়টি এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বাংলাদেশের অশান্ত পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ভারতবিরোধী শক্তিকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেছিলেন লোন। সীমান্তবর্তী জেলাকে ঘিরে এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
