নীল কুর্তি, সাদা সালোয়ার এবং কামানো মাথা: সংহতির এক অনন্য ছবি। বর্তমানে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সম্প্রতি। এতে নীল কুর্তি এবং সাদা সালোয়ার, দুপাট্টা পরা স্কুলছাত্রীরা একটি লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রথম নজরে এটি একটি সাধারণ স্কুল প্যারেড বলে মনে হয়, কিন্তু তাদের মুখের দিকে তাকালেই আসল ঘটনা বুঝতে বেশি সময় লাগবে না।
advertisement
প্রথমে, দর্শকরা ভেবেছিলেন এটি স্কুলের কোনও নিয়ম বা ধর্মীয় রীতি হতে পারে। কিন্তু যখন সত্য প্রকাশ পেল, তখন সকলের চোখে জল। আসলে, তাদের ক্লাসের এক বন্ধু ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিল, কেমোথেরাপি কারণে মেয়েটির সব চুল পড়ে যায়। সে এতটাই ভীত ছিল, চুল ছাড়া স্কুলে আসতে লজ্জা পেত, এই ভয়ে যে সবাই তাকে অন্য চোখে দেখবে। আর সেই ভয় দূর করার জন্যই এক অভিনব উদ্যোগ নেয় স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পড়ুয়ারা। এই ঘটনায় পুরো ক্লাস এবং শিক্ষকরা তাদের চুল কেটে মাথা ন্যাড়া করে ফেলে। তারা এটি করেছিল যাতে তাদের বন্ধু একা বা আলাদা বোধ না করে।
আরও পড়ুনঃ চুম্বকের মতো ঘরে টাকা টেনে আনে এই ‘৭’ গাছ, কিন্তু জানেন কী কোন দিকে লাগাবেন? জানুন বাস্তুবিদের নিদান
তবে এই ঘটনা কেবল চুল কেটে ফেলা নয়, বরং সেই ছোট্ট মেয়েটির ক্ষত সারানোর জন্য একটি অনন্য উদ্যোগ ছিল। কল্পনা করুন, যখন সেই মেয়েটি স্কুলে এসে ভয় পেয়ে গেল এবং দেখল যে তার স্কুলের প্রতিটি শিশু এবং শিক্ষক হুবহু তার মতো দেখাচ্ছে, তখন তার সমস্ত ভয় অবশ্যই এক মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। সে নিশ্চয়ই অনুভব করেছিল ‘এই লড়াইয়ে সে একা নয়’। বাচ্চাদের সরলতা এবং ভালবাসা প্রমাণ করেছে, যখন আমরা কঠিন সময়ে একে অপরের হাত ধরে থাকি, তখন সেই বন্ধন এতটাই দৃঢ় হয়ে ওঠে যে কোনও অসুস্থতা বা দুঃখ তা ভাঙতে পারে না।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়ার ঝড় ওঠে। মানবতার এই আভাস সকলকে নাড়া দিয়েছে। এক নেটিজেন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করে লিখেছেন, “যখন আমি কেমোথেরাপির পর মাথা কামিয়ে বাড়ি ফিরেছিলাম, তখন আমার স্বামীও মাথা কামিয়ে আমাকে অবাক করে দিয়েছিলেন। তার সমর্থনের ফলে আমার পক্ষে বাইরে গিয়ে মানুষের মুখোমুখি হওয়া সহজ হয়ে গিয়েছিল।”
অন্য এক নেটিজেন লিখেছেন, “ভারত বদলে যাচ্ছে, এবং মানবতার এই আভাস খুবই সান্ত্বনাদায়ক।” শিশুদের উদার হৃদয়ের প্রশংসা করে আরেকজন লিখেছেন, “মানবতার জয়। শিশু এবং শিক্ষকদের প্রতি আমার প্রণাম।” আবার কেউ কেউ এটিকে সাহসের শিখর বলে অভিহিত করেছেন।
