লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী ডা. মানিনি শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, লেখার উপরে বার বার এই ‘ক্রশ মার্ক’ ওর বিপন্ন মানসিকতার ও মানসিক দ্বন্দ্বের আভাস দেয়৷ তবে এটি স্বতঃপ্রণোদিত ছিল নাকি টাস্কের অংশ ছিল তা অবশ্য জানা যায়নি৷
আরও পড়ুন: বকেয়া ডিএ দিতেই হবে! কবে প্রথম আর কবে দ্বিতীয় কিস্তি? রায়দানে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট
advertisement
তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, মেজ বোনই এঁদের মধ্যে ‘বস’ অথবা ‘ডেথ কম্যান্ডার’ ছিল কি না৷ এই ‘ডেথ কম্যান্ডার’ হল একটা বিশেষ ‘রোল’ যে অন্যদের নির্দেশ দেয়৷
এরপরেই আসে ‘ফাইনাল টাস্ক’৷ মেয়েদের ঘরব থেকে পাওয়ার একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল, ‘‘এখন তুমি বুঝতে পারবে যে গেম আমাদের ছাড়তে বলছিলে, সেগুলো আমার কাছে কতটা কাছের৷’’
গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ন’তলার জানলা থেকে ঝাঁপ দিয়েছিল পর পর৷ তিন বোন৷ সোজা পড়েছিল ৮০ ফুট নীচে৷ বয়স, ১৪, ১৬ এবং ১২৷ পুলিশ জানিয়েছে, সম্ভবত ওরা প্লাস্টিকের টুলের সাহায্যে খোলা জানলায় উঠেছিল৷ তারপরেই মরণঝাঁপ৷
পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, এই পরিবারের ভিতরে নানা জটিলতা ছিল৷ ওই তিন কিশোরীর বাবা চেতন কুমার পেশায় একজন স্টক ট্রেডার৷ জানা গিয়েছে, বাজারে তাঁর ২ কোটি বেশি টাকার দেনা রয়েছে৷ প্রবল অর্থনৈতিক চাপে ইলেকট্রিক বিল মেটাতে মেয়েদের ফোন বিক্রি করে দিয়েছিল সে৷
শুধু তাই নয়, গত দু’বছর মেয়েরা স্কুলে অনিয়মিত হয়ে গেলেও তাঁর টনক নড়েনি৷ গত কয়েকদিনে হঠাৎ করেই মেয়েদের ‘গেম অ্যাডিকশনের’ দিকে নজর পড়ে তাদের বাবার৷ ওই তিন কিশোরী সোশ্যাল মিডিয়ায় কোরিয়ান নাম ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে পুলিশ৷ মারিয়া, আলিজা এবং সিন্ডি৷ নিজেদের ‘কোরিয়ান প্রিন্সেস’ বলে মনে করত৷ সব সময় সব কাজ একসঙ্গে করত৷ নাওয়া, খাওয়া, ঘুম সব৷
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, আত্মহত্যার ঘটনার দিন দশেক আগেই মেয়েদের অনলাইন কাজকর্মের বিষয়টি নজর আসে তাদের বাবার৷ সঙ্গে সঙ্গে সেই সমস্ত অ্যাকাউন্ট ডিলিট করে দেন তিনি৷
সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রের খবর, পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে মনে হয়েছে, ওই তিন কিশোরী কোরিয়ান টাস্ক বেসড ‘লাভ গেম’-এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিল৷ যেখানে বিভিন্ন চ্যালে়ঞ্জ দেওয়া হতো পার্টিসিপেন্টদের৷
