ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, ব্যবহারকারী বাহিনীর মূল্যায়ন পর্বের অংশ হিসেবেই এই উৎক্ষেপণ। দু’টি ক্ষেপণাস্ত্রই ঠিক করা পথ ধরেই উড়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। উৎক্ষেপণের শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রেঞ্জে বসানো রাডার ও ট্র্যাকিং যন্ত্র এবং সমুদ্রে থাকা জাহাজে বসানো টেলিমেট্রি সিস্টেম পুরো প্রক্রিয়াটি নজরে রাখে।
‘প্রলয়’ একটি কঠিন জ্বালানিভিত্তিক কোয়াজি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। আধুনিক গাইডেন্স ও নেভিগেশন ব্যবস্থার কারণে এটি খুব কম সময়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদ করতে পারে। একাধিক ধরনের ওয়ারহেড বহনের ক্ষমতা থাকায় যুদ্ধক্ষেত্রে নানা ধরনের লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ডিআরডিও-র বিজ্ঞানীরা।
advertisement
এই পরীক্ষায় আরেকটি দিক বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। পিনাকা রকেটের মতোই ‘প্রলয়’ উৎক্ষেপণেও একই লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে আলাদা করে নতুন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দরকার পড়বে না, দ্রুত মোতায়েন করা যাবে ক্ষেপণাস্ত্রটি। সেনাবাহিনীর জন্য এটি বড় সুবিধা বলে মনে করা হচ্ছে।
হায়দরাবাদের রিসার্চ সেন্টার ইমারাতের নেতৃত্বে ডিআরডিও-র একাধিক গবেষণাগার এবং ভারত ডায়নামিক্স লিমিটেড ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ও দেশীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে ‘প্রলয়’ তৈরি হয়েছে। পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন ডিআরডিও-র শীর্ষ বিজ্ঞানী, ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনার প্রতিনিধিরা।
এই সাফল্যের জন্য ডিআরডিও, সেনাবাহিনী, বায়ুসেনা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেন, একের পর এক সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি আরও মজবুত হচ্ছে। ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান ড. সমীর ভি কামাত জানান, এই পরীক্ষা ‘প্রলয়’-এর নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে এবং খুব শিগগিরই বাহিনীতে যুক্ত করার প্রস্তুতি শুরু হবে।
