পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্ষেতের মধ্যে একটি খাটের পাশে যন্ত্রণায় কাতর অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর নাক ও জিভ কাটা ছিল এবং শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা চলাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় বৃদ্ধাকে আগে যৌন নির্যাতন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত এবং মেডিক্যাল রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না।
advertisement
মধ্যপ্রদেশে নৃশংসতা, গমক্ষেতে নাক-জিভ কাটা অবস্থায় উদ্ধার ৭০ বছরের বৃদ্ধা, হাসপাতালে মৃত্যু
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজগড়ের এসডিওপি ধর্মবীর নগর ও টিআই সঙ্গীতা শর্মা-সহ পুলিশ আধিকারিকেরা। পরে খিলচিপুর হাসপাতালেই দুই চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করেন।
মৃত বৃদ্ধার ছেলের দাবি, প্রায় তিন দশক ধরে তাঁদের পরিবার গ্রামের বাইরে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে কৃষিজমির ওপর একটি কুঁড়েঘরে থাকত। দু’বছর আগে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে তাঁর এক ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী ওই ঘরেই থাকতেন। প্রায় দশ দিন আগে ভাইয়ের স্ত্রী কাজের সূত্রে বাবা-মায়ের সঙ্গে রাজস্থানে চলে যান। মঙ্গলবার রাতে তাঁর ভাই সেচ দেওয়ার জন্য পাশের ক্ষেতে যান এবং বৃদ্ধা মা একাই ঘরে ছিলেন। গভীর রাতে ফিরে এসে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাকে ঘরে না দেখে প্রথমে মনে করা হয় তিনি হয়তো গ্রামের দোকানে গিয়েছেন। কিন্তু গ্রামেও খোঁজ না মেলায় পরিবারের লোকজন আশপাশের ক্ষেত খুঁজতে শুরু করেন। তখনই কিছু দূরের একটি গমক্ষেতে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর মুখ বিকৃত ছিল এবং পাশে একটি খাট পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
পরিবারের অভিযোগ, বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক ও মেডিক্যাল রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই ভয়াবহ মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
