১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৫১.৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরবী-সাইরাং রেললাইনের উদ্বোধন করেন। সেই ঐতিহাসিক উদ্বোধন মিজোরামের পর্যটনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত ছয় মাসে পর্যটকের আগমন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করছে। এর ফলে আতিথেয়তা শিল্প ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, ইকো-ট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক পর্যটন উৎসাহ পাচ্ছে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক একীকরণের বৃহত্তর লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে মিজোরাম উত্তর-পূর্বের এক উদীয়মান গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
advertisement
গাঁদা গাছে ফুল আসে না? ‘সিক্রেট’ টিপস আছে! সহজ উপায় জানলেই বড় বড় ফুলে ভরবে বাগান
সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ ভৈরবী-সাইরাং রুটে ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ার পর জনসাধারণের অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। সাইরাং-আনন্দবিহার রাজধানী এক্সপ্রেসের উভয় দিকেই যাত্রীসংখ্যা যথাক্রমে ১৪৭ শতাংশ এবং ১৫৪ শতাংশের বেশি হয়েছে। একইভাবে সাইরাং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এবং সাইরাং-কলকাতা এক্সপ্রেসেও ১০০ শতাংশের বেশি যাত্রীসংখ্যা নথিভুক্ত হয়েছে, যা নতুন সংযোগের প্রতি প্রবল চাহিদা এবং জনগ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। সম্প্রতি ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে মাননীয় রেলমন্ত্রী সাইরাং থেকে শিলচর পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেন। এর ফলে আঞ্চলিক গতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে এবং মিজোরাম অসমের বরাক উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত হবে।
ভৈরবী-সাইরাং সেকশনে মালবাহী পরিবহনও উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। উদ্বোধনের কিছুদিনের মধ্যেই ২১টি সিমেন্ট ওয়াগনযুক্ত প্রথম মালবাহী রেক সফলভাবে সাইরাং-এ পৌঁছায়, যার মাধ্যমে রাজ্যে নিয়মিত মালবাহী পরিবহন শুরু হয়। পরবর্তীতে সিমেন্ট, বালি, স্টোন চিপস, প্রয়োজনীয় পণ্য ও অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী পরিবহন করা হয়েছে। ১১৯টি যাত্রীবাহী যানবাহন বহনকারী প্রথম অটোমোবাইল রেক সাইরাং-এ পৌঁছানো এই লাইনের উচ্চমূল্যের বাল্ক কনসাইনমেন্ট পরিচালনার সক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পার্সেল লজিস্টিকস জোরদার করতেও পদক্ষেপ নিয়েছে। উদ্যানপালন ও পচনশীল পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে রেফ্রিজারেটেড পার্সেল ভ্যান পরিষেবা চালু করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা কমবে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে এই অঞ্চলে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করা, পরিষেবার মান উন্নত করা এবং যাত্রী ও মালবাহী কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। লক্ষ্য, রেল সংযোগকে অনুঘটক হিসেবে কাজে লাগিয়ে মিজোরাম ও বৃহত্তর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
