সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ করা এক পোস্টে দিল্লি পুলিশ জানায়, “কিছু সূত্র অনুসরণ করে আমরা জানতে পেরেছি, দিল্লিতে নিখোঁজ কিশোরীদের সংখ্যা বেড়েছে—এই প্রচার মূলত পেইড প্রোমোশনের (অর্থের জন্য প্রচার) মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে।” পোস্টে আরও বলা হয়, “আর্থিক লাভের জন্য আতঙ্ক তৈরি করা বরদাস্ত করা হবে না এবং এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” দিল্লিতে নিখোঁজের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পরে প্রথমবার প্রতিক্রিয়া জানাল দিল্লি পুলিশ৷
advertisement
এর আগেও দিল্লি পুলিশ একাধিকবার অনলাইনে ছড়ানো গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। বৃহস্পতিবার করা এক পোস্টে পুলিশ জানায়, “সাম্প্রতিকালে দিল্লিতে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা শহরবাসীকে অনুরোধ করছি, নিখোঁজ শিশু সংক্রান্ত গুজবে বিশ্বাস করবেন না।’’ সেই সঙ্গে তথ্য বিকৃত করে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে৷
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা তাদের কাছে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ এবং নিখোঁজদের খোঁজে বের করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ আধিকারিকরা চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করছেন।
আরও এক বার্তায় দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট করে বলেছিল, “নিখোঁজ ব্যক্তি, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। আগের বছরের তুলনায় নিখোঁজের ঘটনায় কোনও বৃদ্ধি হয়নি।”
আরও পড়ুন: কতদিন ‘বাঁচবেন’? আয়ুর বড় ‘ক্লু’ লুকিয়ে রয়েছে নখেই! নিজে দেখেই বুঝতে পারবেন কীভাবে? জানুন
সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টে দ্রুত তদন্ত ও পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জানুয়ারি ২০২৬-এ নিখোঁজের রিপোর্ট গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম ছিল। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পুলিশ আধিকারিকরা ব্যাখ্যা করেছেন যে উদ্ধার হওয়া বহু শিশু স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিল এবং তাদের খোঁজে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত নজরদারি ব্যবহার করা হয়।
সংবাদ সংস্থা ANI-র খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের তথ্য অনুযায়ী জানুয়ারি ২০২৬-এ মোট ১,৭৭৭টি নিখোঁজের মামলা নথিভুক্ত হয়, যা শহরের গড় মাসিক প্রায় ২,০০০টির চেয়ে কম। পাশাপাশি, ২০১৬ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে খুঁজে বের করে পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা প্রায় ৭৭ শতাংশ উদ্ধার হারকে নির্দেশ করে।
দিল্লি পুলিশ আগেই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছিল, ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ৮০৭ জন নিখোঁজের রিপোর্ট হয়েছে, যার মধ্যে ১৯১ জন নাবালক এবং ৫০৯ জন মহিলা ও কিশোরী। তবে এই সংখ্যাগুলি স্বীকার করেও পুলিশ সংবাদ সংস্থা PTI-কে জানায়, সামগ্রিকভাবে জানুয়ারি ২০২৬ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম নিখোঁজের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সব অভিযোগ দ্রুত নথিভুক্ত করা হয়েছে, নির্ধারিত SOP কঠোরভাবে মেনে চলা হয়েছে এবং দ্রুত উদ্ধারের জন্য জেলা স্তরের নিখোঁজ ব্যক্তি স্কোয়াড ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট মোতায়েন রয়েছে।
