গত মঙ্গলবার ঠাকুমার সঙ্গে স্কুল যাচ্ছিল ছোট্ট মেয়েটা৷ ধাক্কা লাগার পরে যখন তাঁর নাতনি পড়ে গিয়েছে, বাঁচানোর জন্য আর্তি জানিয়েছিলেন তাঁর ঠাম্মা৷ কিন্তু, কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি৷
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় টহলরত একটি পিসিআর ভ্যান ওই দুর্ঘটনা নিয়ে ফোন পায়৷ ফোন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় মেয়েটিকে দ্বারকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি৷ পরে ডিডিইউ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় মেয়েটির৷
advertisement
বাচ্চাটির ঠাকুমা মার্সি জেভিয়ারও এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন৷ তাঁর চিকিৎসা চলছে, এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল৷
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ একটি ই-রিকশয় উঠে তাঁদের বাসস্থান লাজবন্তী গার্ডেন থেকে বের হয়েছিলেন ওই ঠাম্মা ও নাতনি৷ যাচ্ছিলেন স্কুলের দিকে৷ পথে দ্রুতগতিতে আসা একটি গাড়ি তাদের রিকশকে ধাক্কা মারে৷
ওই বৃদ্ধা জানান, জ্ঞান ফিরে পাওয়ার পরে তিনি দেখেন, তাঁর নাতনি পাশে পড়ে রয়েছে৷ প্রচুর রক্ত বেরচ্ছে৷ কাঁপা গলায় ঘটনার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমার যখন চোখ খুলল, আমি মাটিতে পড়ে রয়েছি৷ আমার হাত রক্তে ভরে গিয়েছে৷ প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে৷ কিন্তু, আমি শুধু ওঁর (নাতনি) কথা ভাবছিলাম৷’’
ওই বৃদ্ধা জানান, তিনি বারবার ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ এবং মোটরবাইক আরোহীদের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন৷ এমনকি, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সি চালককেও তাঁর আহত নাতনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রীতিমতো ভিক্ষা করেছিলেন ওই বৃদ্ধা৷ কিন্তু, সাহায্য করার বদলে সে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ৷
মেয়েটির মা জানিয়েছেন, তাঁর শাশুড়ি বেশ কয়েকটি গাড়ি থামিয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু কেউই সাহায্য করেননি।
তিনি বলেন, বার বার সাহায্য চেয়েও না মেলায় তাঁর শাশুড়ি ভয় পেয়ে তাঁকে ফোন করেন৷ তিনি দাবি করেন, ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হয়েছিল, কিন্তু কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি৷ অবশেষে একজন নার্স এবং আরেকজন শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে সাহায্য করেন। শিশুটির পরিবারের বিশ্বাস ঠিক সময় চিকিৎসা পেলে হয়ত মেয়েটা বেঁচে যেত৷
