দমকল বাহিনীর মতে,পালাম মেট্রো স্টেশন ২ নম্বর রাস্তার পাশের একটি বিল্ডিংয়ের একটি বাড়িতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। কয়েকজনের ভিতরে আটকা পড়ার আশঙ্কা ছিল। ঘটনাস্থলে ৩০টি দমকলের গাড়ি পাঠানো হয়। রাজেন্দ্র কাশ্যপের পুরো পরিবার সেখানেই থাকে। পরিবারে প্রায় ১৫ জন সদস্য রয়েছেন। রাজেন্দ্র কাশ্যপ বাজারের প্রধান এবং পুরো বিল্ডিংটির মালিকও। বেসমেন্ট এবং নিচতলায় একটি বিউটি পার্লার, একটি চুড়ির দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসা রয়েছে। তার পরিবার উপরের তলাগুলোতে থাকে। রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় রাজেন্দ্র কাশ্যপ বাড়িতে ছিলেন না।
advertisement
বুধবার পালাম এলাকার এই বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে তিন শিশুসহ অন্তত সাতজন নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন এবং ভিতরে এখনও বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আতঙ্কে ওপর থেকে লাফিয়ে পড়েন, কিন্তু মহিলাসহ অন্যরা ভিতরে আটকা পড়েন। দমকল বাহিনী পৌঁছানোর আগেই আগুন একটি বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। আশেপাশের লোকজনও আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিন শিশুসহ আটজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন। আগুন থেকে বাঁচতে মরিয়া হয়ে দু’জন ভবনটি থেকে লাফ দেন, এতে তারা আহত হন। চিকিৎসার জন্য তাদের নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুন কোথা থেকে শুরু হয়েছিল?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ভবনটিতে একটি বেসমেন্ট এবং চারটি তলা রয়েছে, পাশাপাশি ছাদে একটি অস্থায়ী টিনের চালা আছে। জানা গেছে, বেসমেন্ট এবং একতলা কাপড় ও প্রসাধনী সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হতো, আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হত। উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দিল্লি পুলিশের একটি দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে। এছাড়াও, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য সেন্ট্রালাইজড অ্যাক্সিডেন্ট অ্যান্ড ট্রমা সার্ভিসেস (ক্যাটস)-এর একটি অ্যাম্বুলেন্স ও একটি মেডিক্যাল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন নয়াদিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত
দমকল কর্তারা জানিয়েছেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। বর্তমানে তাদের অগ্রাধিকার হল আগুন সম্পূর্ণরূপে নিভিয়ে ফেলা এবং ভবনের ভিতরে আটকা পড়া সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চলছে এবং কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এই ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে ঘটা আরেকটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের দিনেই ঘটেছে, যে ঘটনায় আটজনের প্রাণহানি হয়। সারারাত ধরে একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জে দেওয়ার সময় আগুন লাগে। ভোর ৪টার নাগাদ একটি শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং বাড়িটির ভেতরে একটি বিস্ফোরণ ঘটে।
