শনিবার রাতে ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন শ্রীলঙ্কা–তামিলনাড়ু উপকূলের উপর দিয়ে প্রায় ঘণ্টায় ৫ কিমি বেগে উত্তরমুখে এগোতে থাকে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের (IMD) মতে, ঘূর্ণিঝড়টি ভূভাগের আরও কাছে আসতে থাকলেও তার তীব্রতা স্থির ছিল।
advertisement
মায়ের ছদ্মবেশে তিন বছর ধরে পেনশন তুলছিলেন ছেলে! গ্রেফতারের পর সামনে এল বিভীষিকাময় প্রতারণা
২৯ নভেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল অক্ষাংশ ১০.৭° উত্তর এবং দ্রাঘিমাংশ ৮০.৬° পূর্বে। সেটি তখন ভেদারন্যমের পূর্ব–উত্তরপূর্বে ৯০ কিমি, কারাইলের পূর্ব–দক্ষিণপূর্বে ৯০ কিমি, যাফনার উত্তর–উত্তরপূর্বে ১৩০ কিমি, পুঁদুচেরির দক্ষিণ–দক্ষিণপূর্বে ১৬০ কিমি এবং চেন্নাইয়ের দক্ষিণে প্রায় ২৬০ কিমি দূরে ছিল। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝড়টি উত্তর তামিলনাড়ু–পুঁদুচেরি উপকূলের প্রায় সমান্তরাল পথে এগোবে—রবিবার ভোরে উপকূল থেকে ৫০ কিমি এবং সন্ধ্যার মধ্যে মাত্র ২৫ কিমি দূরত্বে চলে আসবে। আজ, ৩০ নভেম্বরই ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা।
রবিবারই আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া! উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে, বাতিল ৪৭টি ফ্লাইট
ভারি বৃষ্টি ও সতর্কতা
তামিলনাড়ু এবং পুঁদুচেরির একাধিক জেলায় জারি হয়েছে রেড অ্যালার্ট। কাডালুর, নাগাপট্টিনম, ময়িলাদুথুরাই, ভিল্লুপুরম ও চেঙ্গালপাট্টু সহ পুঁদুচেরি–কারাইক্যাল অঞ্চলে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে IMD। দক্ষিণ তামিলনাড়ু ও ডেল্টা জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রবল বর্ষণ শুরু হয়েছে, অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে।
বর্তমানে ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ৭০–৮০ কিমি। অত্যন্ত তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের মানদণ্ডে না পড়লেও ধীর গতিতে উপকূলের এত কাছে অবস্থান করার ফলে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। আবহাওয়া দফতরের ডিজি এম. মহাপাত্র জানান, “বাতাসের গতি খুব বেশি না হলেও কৃষিজমি ও ফসলের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নিম্নভূমিতে জল ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। আধা থেকে এক মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস দেখা দিতে পারে।”
রবিবারই আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় দিতওয়া! উপকূলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে, বাতিল ৪৭টি ফ্লাইট
প্রশাসনিক প্রস্তুতি
ঝড়ের মোকাবিলায় তামিলনাড়ু সরকার ২৮টি ডিজাস্টার রেসপন্স টিম মোতায়েন করেছে, পাশাপাশি ৬,০০০টি ত্রাণ শিবির প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকার সমস্ত জরুরি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছে। ভাদোদরা, গুজরাট থেকে ৬ BN NDRF-এর পাঁচটি দল সংশ্লিষ্ট উদ্ধার সরঞ্জামসহ চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়েছে।
এ দিকে শ্রীলঙ্কায় ইতিমধ্যেই দিত্ওয়ার প্রভাবে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—১৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, নিখোঁজ প্রায় ২০০। চেন্নাই ও আশপাশের উপকূলীয় শহরগুলোতে বাড়ানো হয়েছে সতর্কতা। বিমানবন্দরে উড়ান বাতিল ও বাতিলের সম্ভাব্য তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষও বিশেষ ওয়ার রুম চালু করেছে, যাতে যে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হলে দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করা যায়।
ঘূর্ণিঝড় দিত্ওয়া সম্পর্কে
২০২৫ সালের উত্তর ভারত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড় মরশুমে এটি ১৪তম ট্রপিক্যাল ডিপ্রেশন বা ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় এবং চতুর্থ নামকৃত ঝড়। দক্ষিণ–পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে শ্রীলঙ্কার কাছে সৃষ্ট হয়ে এটি দ্রুত উত্তর–উত্তরপশ্চিমে অগ্রসর হয় এবং ভারতের পূর্ব উপকূলের পাশ ঘেঁষে ওঠে।
