এদিন সংসদের উচ্চকক্ষে এদিন বিদায়ী ভাষণ দিলেন বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে৷ তাঁর দীর্ঘ সংসদীয় জীবনের অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা৷ বিশেষভাবে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়া-র কথা উল্লেখ করেন, যার বর্তমান রাজ্যসভার মেয়াদ শেষ হতে চলেছে।
আরও পড়ুন: রোজ পরছেন, বলুন তো জুতোর পেছনে কেন থাকে এই ছোট্ট ‘ফিতে’? ৯৯% লোকজনই জানেন না এর আসল কাজ
advertisement
খাড়্গে মজার ছলে বলেন, “আমি ওনাকে ৫৪ বছর ধরে চিনি এবং একসঙ্গে কাজ করেছি। উনি আমাদের সঙ্গে ডেট করেছেন, আমাদের ভালবেসেছেন, কিন্তু বিয়ে করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।” তাঁর এই মন্তব্যে সংসদ জুড়ে হাসির রোল ওঠে, এমনকি উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী মোদীও হাসিতে সামিল হন।
এই রসিকতার মাধ্যমে খাড়্গে জনতা দল (সেক্যুলার)-এর রাজনৈতিক জোট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। ১৯৯৬ সালে ইউনাইটেড ফ্রন্ট সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন এবং ২০১৮ সালে কর্ণাটকে জেডিএস-কংগ্রেস জোটের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে ২০১৯ সালে সেই জোট ভেঙে যায় এবং পরে জেডিএস বিজেপির সঙ্গে হাত মেলায়।
এছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং আরপিআই (এ) প্রধান রামদাস আঠাওয়ালে-কে নিয়েও খাড়্গে মজা করেন। তিনি বলেন, “উনি এমন কোনও কবিতা জানেন না, যেখানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রশংসা করা হয় না।” এই মন্তব্যেও বিরোধী শিবিরে হাসির ঝড় ওঠে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিদায়ী অধিবেশনে বক্তব্য রেখে অবসর নেওয়া সাংসদদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং বলেন, “রাজনীতিতে কোনও ফুলস্টপ নেই।” তিনি নতুন সদস্যদের এইচ. ডি. দেবেগৌড়া, মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং শরদ পাওয়ারয়ের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের কাছ থেকে শেখার আহ্বান জানান। অথাওয়ালের প্রসঙ্গে মোদি নিজেও রসিকতা করে বলেন, সংসদে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ কিছুটা কমে গেলেও “আঠাওয়ালে চিরসবুজ।”
এ বছর মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসন খালি হয়েছিল। এর মধ্যে ২৬ জন সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, আর বাকি আসনগুলিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। এই পরিবর্তনের মাঝেই সংসদের পরিবেশ কিছুটা সময়ের জন্য হলেও হাস্যরসে ভরে ওঠে।
