বিজেপির সংগঠন পর্বের জাতীয় রিটার্নিং অফিসার ডঃ কে লক্ষ্মণের মতে, প্রত্যাহারের সময়কালের পরে জাতীয় সভাপতি পদের জন্য কেবল একটি নাম – নিতিন নবীনই প্রস্তাব করা হয়েছিল।
প্রেস বিবৃতিতে লক্ষ্ণণ জানিয়েছেন, “বর্তমানে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে, ভারতীয় জনতা পার্টির সংগঠন পর্বের জাতীয় রিটার্নিং অফিসার হিসেবে আমি ঘোষণা করছি যে, ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি পদের জন্য কেবলমাত্র শ্রী নিতিন নবীনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে৷”
advertisement
৪৫ বছর বয়সি নবীনকে গত ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ বিজেপির সর্বভারতীয় কর্যনির্বাহী সভাপতি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়েছিল৷ এখন যদি তাঁকে স্থায়ী ভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনিই হবেন এই পদে অধিষ্ঠিত হওয়া সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি।
তিনি দলের ১২তম জাতীয় সভাপতি হিসেবে সিনিয়র নেতা জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ শীর্ষ নেতারা তাঁর প্রার্থিপদ সমর্থন করেছেন।
ওই প্রেস বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘সূচি অনুসারে, আজ, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার), দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সর্বভারতীয় সভাপতি পদের জন্য শ্রী নিতিন নবীনের পক্ষে মোট ৩৭ সেট মনোনয়নপত্র গৃহীত হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময়, সমস্ত মনোনয়নপত্র প্রয়োজনীয় ফর্ম্যাটে যথাযথভাবে পূরণ করা এবং বৈধ বলে প্রমাণিত হয়েছে৷’’
সোমবারই সকাল থেকে একে নরেন্দ্র মোদি, জেপি নাড্ডা, অমিত শাহদের মতো শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের নিতিন নবীনের পক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে দেখা যায়য।
নাড্ডা, শাহ ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নিতিন গডকড়ি এবং প্রবীণ নেতা ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব এবং কিরেন রিজিজু সকলেই তাঁর সমর্থনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে, অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু এবং অন্যান্য রাজ্য নেতারা তার সমর্থনে আরও একটি মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এই অনুষ্ঠানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, পুষ্কর সিং ধামি, নায়াব সিং সাইনি এবং প্রমোদ সাওয়ান্তও উপস্থিত ছিলেন। বিহার, অন্ধ্র প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, অএসম, ঝাড়খণ্ড এবং অন্যান্য রাজ্যের নেতারাও নবীনের সমর্থনে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
বর্তমানে বিহারের পিডব্লিউডি মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন নবীন এবং পটনার বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৫ বারের জয়ী বিধায়ক৷
শুধু তাই নয়, নিতিনের বংশ পরিচয়ও তাঁর এক বিরাট পরিচয়৷ তিনি বিজেপি স্টলওয়ার্ট এবং প্রাক্তন বিধায়ক নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার সুপুত্র৷ বাবার মৃত্যুর পরে উপ নির্বাচনে বিরাট মার্জিনে জিতে ২০০৬ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে রাজনীতিতে হাতেখড়ি নিতিনের৷
দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত৷ দলের অন্দরে সুসংগঠক হিসাবেই তাঁর সুনাম৷ বিহারের মন্ত্রী এবং ছত্তিশগড়ের বিজেপির ইনচার্জ হিসাবে তাঁর কাজ প্রায়শই তাঁর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দক্ষতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
