রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আরলেকারের হাতে ইস্তফাপত্রটি তুলে দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘” আমি মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এই সরকার ভেঙে দেওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়েছি রাজ্যপালকে। সবকিছু ঠিক চলছিল না, তাই ইস্তফা দিলাম। আমি এতদিন চুপ ছিলাম, চারিদিকে দেখছিলাম। সবার মত গ্রহণ করেই ইস্তফা দিয়েছি।’’ পুরনো জোট সঙ্গীদের সমালোচনা করে নীতীশ বলেন, ‘‘এই জোটের সঙ্গে কাজ করতে অসুবিধা হচ্ছিল৷ সকলের পরামর্শমনতোই ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম৷’’
advertisement
জানা গিয়েছে, এদিন বিকেলেই এনডিএ-র হাত ধরে নবম বারের মতো বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন নীতীশ কুমার৷
আরও পড়ুন: রবিবার ফের শপথ নিতে পারেন নীতীশ, সমর্থনের বিনিময়ে কী কী শর্ত দিল বিজেপি?
রবিবার সকাল সকালই পটনার ১ নম্বর অ্যান মার্গ, অর্থাৎ, বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে আসতে শুরু করেন জেডিইউ বিধায়কেরা। সেখানে দলের অন্যান্য নেতা এবং বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে করে নীতীশ জানিয়ে দেন কেন এই জোট সরকার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারপরেই নীতীশকে নিয়ে কনভয় রওনা দেয় রাজভবনের উদ্দেশে৷
এই প্রথম নয়৷ এক জোটের হাত ছেড়ে অন্য জোটের হাত ধরায় নীতীশ কুমারকে খানিক ‘সিদ্ধহস্ত’ই বলা যায়৷ নিন্দক মহলে ‘পাল্টি কুমার’ নামও অর্জন করেছেন তিনি৷ ২০২০ সালে বিজেপি-র সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার গঠন করেছিলেন নীতীশ৷ কিন্তু, ২০২২ সালের ৯ অগস্ট বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে পুরনো সঙ্গী লালুপ্রসাদের আরজেডি এবং অন্যান্যদের সঙ্গে ‘মহাগঠবন্ধন’ জোট তৈরি করে সরকার গড়েন নীতীশ৷
এমনকি, চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী জোট তৈরির অন্যতম হোতা ছিলেন নীতীশ৷ কিন্তু, গত সপ্তাহ থেকে হঠাৎই ইন্ডিয়া শরিক কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে শুরু করেন নীতীশ৷ সপ্তাহের শেষ গড়াতে না গড়াতেই নীতীশের ফের দলবলের খবর স্পষ্ট হয়ে ওঠে৷
