পুলিশ জানিয়েছে, শাজিয়া নাইট শিফট সেরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি ফিরেই খেয়াল করেন যে তাঁর স্বামী কোনও সাড়া দিচ্ছেন না। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তা কর্মীদের খবর দেন এবং জানান যে শোওয়ার ঘরের দরজাটি ভিতর থেকে বন্ধ। প্রহরীরা দরজা ভেঙে ভিতরে রেড্ডির মৃতদেহ দেখতে পান। ঘটনাস্থলে টেবিল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়।
advertisement
প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে প্রতিবেশীরা জরুরি পরিষেবাগুলিতে খবর দেওয়ার সময় শাজিয়া অল্প সময়ের জন্য অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “মৃতদেহটি আবিষ্কারের পর শাজিয়া প্রায় ২০ মিনিট ধরে সেখানেই ছিলেন।” ধারণা করা হচ্ছে, এই হট্টগোলের মধ্যে তিনি চুপচাপ বেরিয়ে যান, লিফটে করে ১৮ তলায় ওঠেন এবং ঝাঁপ দেন।
জানা গিয়েছে, রেড্ডি তাঁর সুইসাইড নোটে চাকরি হারানো এবং ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে এই চরম সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতেন এবং সেখানে বার্ষিক প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা বেতন পেতেন। রেড্ডির পরিবারেরমতে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি ছোট বাড়ি কিনেছিলেন এবং পরিবারের জন্য তেলেঙ্গানায় আরও একটি বাড়ি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু এআই-এর কারণে তিনি চাকরি হারান এবং এতে তিনি ভেঙে পড়েন। অন্য চাকরি পেতে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁর উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। তবে তাঁর পরিবার ও স্ত্রী তাঁকে সমর্থন করেছিলেন,” একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা এমনটাই জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
শাজিয়া বহুজাতিক প্রযুক্তি সংস্থা আইবিএম-এ চাকরি পাওয়ার পর প্রায় আট মাস আগে এই দম্পতি বেঙ্গালুরুতে চলে এসেছিলেন। রেড্ডি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর ভারতে ফিরে এসেছিলেন এবং তারপর থেকে নতুন কাজের খোঁজ করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে যে, রবিবার রাতে শাজিয়া হায়দরাবাদ ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে ওই দম্পতির মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। ফোনে কথোপকথনের সময় রেড্ডি উল্লেখ করেন যে তিনি অনলাইনে রাতের খাবারের অর্ডার দিয়েছেন এবং তাড়াতাড়ি ডিনার করবেন।
প্রায় আড়াই বছর ধরে বিবাহিত এই দম্পতি তাঁদের সম্পর্কটি মূলত গোপনই রেখেছিলেন। তদন্তকারীরা বন্ধু ও সহকর্মীদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, কেবল রেড্ডির বাবা-মা এই বিয়ের কথা জানতেন, অন্যদিকে শাজিয়া তার নিজের পরিবারের কাছেও বিষয়টি প্রকাশ করেননি। প্রাথমিকভাবে হায়দরাবাদে বসবাস করলেও, বিয়ের গোপনীয়তার কারণে এই দম্পতিকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, যার ফলে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা থানিসান্দ্রা মেইন রোডের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের টাওয়ার ৬-এর অষ্টম তলায় থাকতেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতে ফেরার পর বেকার হয়ে পড়ায় রেড্ডি উদ্বেগে ভুগছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
If you or someone you know needs help, call any of these helplines: Aasra (Mumbai) 022-27546669, Sneha (Chennai) 044-24640050, Sumaitri (Delhi) 011-23389090, Cooj (Goa) 0832- 2252525, Jeevan (Jamshedpur) 065-76453841, Pratheeksha (Kochi) 048-42448830, Maithri (Kochi) 0484-2540530, Roshni (Hyderabad) 040-66202000, Lifeline 033-64643267 (Kolkata)
