রেল প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গ পেল ৬৩৩৬ কোটি টাকা ৷ পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, NFR ও মেট্রো মিলিয়ে গতবারের তুলনায় ২৫১৬ কোটি বেশি পেল রাজ্য ৷ নতুন ও চালু রেল প্রকল্পের জন্যও আগের থেকে বেড়েছে বরাদ্দ ৷
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল মন্ত্রিত্ব ও লালু প্রসাদ যাদবের সময় বাদে রেল বাজেটে বঙ্গের প্রাপ্তির ভাঁড়ার ছিল প্রায় শূন্য ৷ মেট্রো প্রকল্প ছাড়া বরাদ্দের ঝুলিতে জুটল যৎসামান্য ৷ পূর্ব তথ্য অনুসারে,
advertisement
২০১৩-১৪ সালের রেল বাজেটে বাংলার বরাদ্দ ছিল ১৬০৪.৭ কোটি, ২০১৪-১৫ সালে ছিল ২৯০৭ কোটি, ২০১৫-১৬ সালে একটু বেড়ে হয় ৩৬১৫ কোটি, গত বছর ছিল ৩৮২০ কোটি ৷
বিগত রেল বাজেটগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রকল্পগুলির জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি হলেও কখনও জমি জট কখনও জবরদখলকারী কখনও কেন্দ্র রাজ্য মতানৈক্য সহ একাধিক কারণে প্রকল্পের কাজ আটকে থাকার অভিযোগ ওঠে এবং কিছু ক্ষেত্রে বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির টাকা ফিরেও যায়। এই অবস্থায় যখন কেন্দ্র রাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে নানা মতানৈক্য তৈরি হচ্ছে তখন বাজেটে এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দে কোনওরকম রাজনীতির আঁচ নেই বলেই দাবি রেল মন্ত্রকের কর্তাদের।
পশ্চিমবঙ্গের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে সেই বরাদ্দ টাকায় মেট্রো রেল, পূর্ব রেল, দক্ষিণ পূর্ব রেল, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো, এবং উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের চলতে থাকা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
সাধারণ বাজেটের সঙ্গে রেল বাজেট মিশে যাওয়ায় এদিন প্রকল্প ভিত্তিক অর্থের সংস্থান করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর রেলের ডবল লাইন পাতার কাজ, স্টেশনগুলির আধুনিকিকরণ, মেট্রো প্রকল্পের কাজগুলি শেষ করা হবে বরাদ্দ হওয়া এই টাকা থেকে। বিশেষ করে রাজ্যের তিন মেট্রো প্রকল্প এবং টয় ট্রেনের জন্য বরাদ্দ অর্ধেক পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবারের বাজেটে।
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে অতীতে এমন নজির নেই ৷ এই প্রথম রেল বাজেট রেলমন্ত্রীর বদলে পেশ করলেন কেন্দ্রের অর্থমন্ত্রী ৷ অরুন জেটলির ঘোষণায় শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশের রেলের জন্য এবছর কী কী বরাদ্দ হল দেখে নেওয়া যাক :-
যাত্রী সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন রেল পরিষেবার উপরেই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ৷ এর জন্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ১০ লক্ষ কোটি টাকার একটি আলাদা তহবিল ৷ ২০১৯ সালের মধ্যে রেলের সব কোচেই থাকবে বায়ো টয়লেট ৷ রেলের পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে। আনা হচ্ছে বিশেষ অ্যাপও।
যাত্রীদের জন্য ভাল খবর, IRCTC-র ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ই-টিকিট বুকিংয়ের ক্ষেত্রে এবার থেকে সার্ভিস চার্জ তুলে নেওয়া হবে।
উত্তরপ্রদেশ-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট আসন্ন ৷ এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগেই কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট পেশ বিষয়টি নিয়ে অনেক আগেই প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধী দলগুলি ৷ শেষপর্যন্ত অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করেই আজ বাজেট পেশ করল কেন্দ্রীয় সরকার ৷
ব্রিটিশ ভারতে ১৯২৪ সালে আলাদা রেলবাজেট পেশের পরম্পরা শুরু হয়েছিল। নীতি আয়োগের প্রস্তাবে মেনেই এবারই ছেদ পড়ছে পরম্পরায়। দুই বাজেট মিশলে ডিভিডেন্ট বাবদ ৯ হাজার ৭০০ কোটির বোঝা কমবে রেলের ৷ অপ্রত্যক্ষ কর খাতেও ১২০০ কোটি বাঁচাতে পারবে রেল ৷ রেল বাজেট থেকে রাজনৈতিক ফয়দা লাভের সুযোগ বন্ধ হবে ৷ রেলের আধুনিকীকরণ ও উন্নতিতে অর্থ সংগ্রহের দায় মূলত অর্থমন্ত্রকের ঘাড়ে চাপবে ৷
