প্রায় তিন মাস আগে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে ভারতীয় জলসীমায় ঢুকে পড়েছিল পাঁচটি বাংলাদেশি ট্রলার। সেই সময় আন্তর্জাতিক জলসীমানা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী তাঁদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর থেকেই তারা জেল হেফাজতে ছিলেন। দীর্ঘ কূটনৈতিক আলোচনা এবং প্রশাসনিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বুধবার স্বদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিল ১১৫ জন বাংলাদেশী মৎস্যজীবী।

advertisement

আরও পড়ুন: কাঁঠাল নয়, পাতা বেচেই কপাল ফিরল আনোয়ার আলির! অভিনব ‘বিজনেস আইডিয়া’ তাক লাগাচ্ছে গোটা জেলায়

এদিন সকালে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে মৎস্যজীবীদের হাতে তাদের পাঁচটি ট্রলার ও প্রয়োজনীয় জীবনধারণের সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তবে কেবল মুক্তি নয়, ভারতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের পাথেয় হিসেবে শীতের নতুন পোশাক এবং পর্যাপ্ত শুকনো খাবার ও জলের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। ফেরার মুহূর্তে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীরা জানান, গত তিন মাস তারা ভারতের কারাগারে থাকলেও তাদের প্রতি কোনও অমানবিক আচরণ করা হয়নি। বরং প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের খাবার ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়েছিল।

advertisement

View More

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

এ বিষয়ে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশী মৎস্যজীবী আব্দুল রাজ্জাক, এমডি সেলিম, মহম্মদ শাহাবুদ্দিনরা বলেন, “এদেশে থাকাকালীন আমাদের পরিষেবার কোনও ত্রুটি রাখেনি সরকার। আজ নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু এদেশের মানুষের ভালবাসা সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।” এদিন ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্য বন্দরে পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন কাকদ্বীপের মহকুমা শাসক প্রীতম সাহা, নামখানার বিডিও সুব্রত মল্লিক, সাগরের এসডিপিও সুমন কান্তি ঘোষ, ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার ওসি সুদীপ মণ্ডল এবং ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ডের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্রেজারগঞ্জ থেকে রওনা হওয়া এই মৎস্যজীবীদের বুধবার বিকেলে ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জলসীমানায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের হাতে তুলে দেবে। এরপর চলতি মাসের শেষের দিকে ভারতীয় মৎস্যজীবীরা ওইদেশ থেকে দেশে ফিরতে পারেন।

advertisement