১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় এনডিএ ৮০ থেকে ৯০টি আসন পেতে পারে বলে জানানো হয়েছে, যা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে বিরোধী INDIA bloc পেতে পারে ২৯ থেকে ৩৯টি আসন। ছোট দল ও আঞ্চলিক শক্তিগুলি প্রায় প্রান্তিক অবস্থায় থাকবে বলেই অনুমান।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আপার অসম, লোয়ার অসম এবং নর্থ ব্যাঙ্ক—প্রায় সব জায়গাতেই এগিয়ে রয়েছে এনডিএ, যা তাদের বিস্তৃত সমর্থনভিত্তির ইঙ্গিত দেয়।
advertisement
হিমন্ত ফ্যাক্টর বড় ভূমিকা
অসমের মুখ্যমন্ত্রী Himanta Biswa Sarma এখনও এনডিএ-র প্রধান শক্তি। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৪৮ শতাংশ তাঁকেই প্রথম পছন্দের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তুলনায় কংগ্রেস নেতা Gaurav Gogoi পেয়েছেন ৩৭.৭ শতাংশ সমর্থন।
ভোট শতাংশেও এগিয়ে এনডিএ
ভোট শেয়ারের ক্ষেত্রেও এগিয়ে রয়েছে এনডিএ। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৪২.৭ শতাংশ ভোটার শাসক জোটের পক্ষে, যেখানে বিরোধীদের সমর্থন ৩৬.১ শতাংশ। এছাড়া ৫১.৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, পরবর্তী সরকার গড়বে এনডিএ।
সরকারি কাজকর্মে সন্তুষ্টি
বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সরকারের পদক্ষেপকে প্রায় ৫০.৬ শতাংশ মানুষ ‘ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বলে মূল্যায়ন করেছেন। মোটের উপর ৪৭ শতাংশ মানুষ রাজ্য সরকারের কাজকর্মে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন, যা অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি খুব একটা জোরালো নয় বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কল্যাণ প্রকল্পে বাড়ছে সমর্থন
তফসিলি জাতি, ওবিসি এবং উচ্চবর্ণের ভোটারদের মধ্যে এনডিএ-র শক্তিশালী সমর্থন দেখা যাচ্ছে। মহিলাদের জন্য ৯,০০০ টাকার ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার প্রকল্পকেও ৪২.৮ শতাংশ মানুষ সমর্থন বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
চ্যালেঞ্জও রয়েছে
তবে সবকিছুই যে অনুকূলে, তা নয়। বেকারত্বই সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে (২৫.৭ শতাংশ)। এছাড়া বন্যা, পুনর্বাসন এবং দুর্নীতির মতো বিষয়ও ভোটারদের চিন্তার কারণ। ১৮–২৪ বছর বয়সী তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিরোধীদের কিছুটা বেশি প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
সব মিলিয়ে, সমীক্ষা অনুযায়ী ২০২৬ সালের অসম বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ স্পষ্টভাবে এগিয়ে থাকলেও, চূড়ান্ত ফল নির্ভর করবে ভোটের দিনের উপরই। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনে এনডিএ ৭৫টি আসন জিতে দ্বিতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং মুখ্যমন্ত্রী হন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
