নকশাল সমস্যার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এই সমস্যার শিকড় বহু দশক আগে প্রোথিত হয় এবং পূর্ববর্তী সরকারগুলির আমলে তা আরও গভীর আকার নেয়। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির সময়কালের উল্লেখ করে শাহ দাবি করেন, প্রাথমিক সতর্ক সংকেতগুলি যথাযথভাবে মোকাবিলা করা হয়নি, যার ফলে সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলন বিস্তার লাভ করে।
advertisement
তিনি বলেন, “নকশালবাদের মূল কারণ উন্নয়নের দাবি নয়, এটি একটি মতাদর্শ। ১৯৭০ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জেতার লক্ষ্যে ইন্দিরা গান্ধী এই বামপন্থী মতাদর্শকে গ্রহণ করেছিলেন। সেই কারণেই নকশালবাদ ছড়িয়ে পড়ে।” একসময় এই সশস্ত্র আন্দোলনের ব্যাপ্তি কতটা ছিল, তা তুলে ধরে শাহ জানান, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও মহারাষ্ট্র-সহ প্রায় ডজনখানেক রাজ্য এতে প্রভাবিত হয়েছিল, যা ‘রেড করিডর’ নামে পরিচিতি পায়।
আরও পড়ুন: আরাবুল ইসলামের উপর ক্ষোভ, ভাঙড়ে পাল্টা আইএসএফ-এর বিরুদ্ধে প্রার্থী ঘোষণা CPI(ML) লিবারেশনের
“সেখানে আইনের শাসন কার্যত ভেঙে পড়েছিল। কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত এবং হাজার হাজার তরুণ প্রাণ হারিয়েছিল,” বলেন তিনি। সহিংসতার মানবিক মূল্যও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বছরের পর বছর ধরে এই সংঘাতে প্রায় ২০ হাজার তরুণ প্রাণ হারিয়েছে। নকশালদের শক্তির উৎস প্রসঙ্গে শাহ বলেন, তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের একটি বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালিয়ে লুট করা। তাঁর মতে, প্রায় ৯২ শতাংশ অস্ত্রই পুলিশ বাহিনী থেকে লুট করা হয়েছিল।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। উন্নত শাসন, পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জোরদার নিরাপত্তা অভিযানের ফলে নকশাল প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
