অপরদিকে, ডায়মন্ডহারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘোরার সময় আচমকাই এক মহিলাকে বারান্দায় বসে থাকতে দেখেন সহকারি সুপার সুপ্রিম সাহা। তখনই ওই মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করলে, সেভাবে কিছুই বলতে পারেননি তিনি। পরে, চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন ওই মহিলা মানসিক ভারসাম্যহীন। এরপরই, কলেজের প্রিন্সিপাল উৎপল দাঁয়ের নির্দেশে হ্যাম রেডিও-র একটি সংস্থাকে খবর দেওয়া হয়। তাদের উদ্যোগেই শুরু হয় ওই মহিলার ঠিকানা খুঁজে বের করার কাজ। অবশেষে তারা নানা চেষ্টা করে জানতে পারে জ্যোতি দেবী দীর্ঘদিন ধরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ওই মহিলার ছবি দেখিয়ে তখন পরিচয় নিশ্চিত করেন তারা।
advertisement
কীভাবে ডায়মন্ডহারবারে এলেন ওই মহিলা তা বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁর পরিবার। নানা খোঁজখবর করে হ্যাম রেডিও সংস্থার সদস্যরা জানতে পারে, কাকদ্বীপ অঞ্চলে দীর্ঘ ১৫ বছর ভিক্ষা করেছেন জ্যোতি দেবী। এক দুর্ঘটনায় তাঁর পায়ের গোড়ালির হার ভেঙে যায়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাহায্যে ওই মহিলাকে ডায়মন্ডহারবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার শেষে তিনি সুস্থ হয়ে গেলেও তাঁকে বাড়ি ফেরানো যায়নি। কারণ তিনি কিছুই বলতে পারছিলেন না। এতদিন পর হ্যাম রেডিওর উদ্যোগে বাড়ি ফিরলেন ওই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা। মাকে ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছেলে। এতদিন পর ছেলেকে কাছে পেয়ে কান্না চেপে রাখতে পারলেন না মা-ও।
