সেবার রিক্সা চালিয়ে কলকাতা থেকে বিশ্বশান্তির বার্তা নিয়ে শ্রীনগর হয়ে লাদাখের খারদুংলা পাস অবধি গিয়েছিলেন সত্যেন দাস। সে সময় খারদুংলা পাস বিশ্বের সব থেকে উচ্চ গাড়ি চলাচলের রাস্তা ছিল। উচ্চতা প্রায় ১৮ হাজার ৩৮০ ফিট। দ্বিতীয়বার, মানালি হয়ে লাদাখ গিয়েছিলেন তিনি। এবার গ্লোবাল ওয়ার্মিং, সেভ ওয়াটার ও সেভ আর্থ এর ম্যাসেজ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনা থেকে বাঁচতে মাস্ক পরার আবেদন নিয়ে কলকাতা থেকে সিয়াচিনের পথে রওনা দিয়েছেন তিনি। পাহাড়ের প্রতি নিছক ভালবাসা ও টান ছাড়াও বর্তমান যুব সমাজকে ইচ্ছাশক্তির পাঠ পড়ানোই মূল উদ্দেশ্য সত্যেন দাসের। সত্যেনবাবুর কথায়, বর্তমান যুব সমাজে যেটা অভাব রয়েছে সেটা হ'ল ইচ্ছাশক্তির। তাই অসাধ্য সাধন করে তাদের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই। যাতে আজকের প্রজন্ম গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে ব্যাতিক্রম কিছু করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায়।
advertisement
এবারের যাত্রা সফল হলে হ্যাট্রিক হবে তার। ২০১৪ থেকে ২০২১ পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে লাদাখ যাওয়ার তার রেকর্ড ভাঙতে পারেনি কেউ। প্রথম প্রথম কিছুটা অসুবিধা হলেও এখন অনেকটাই সাবলীল তিনি। তার নাম আর অপরিচিত নয় মানুষের কাছে, অনেকেই কুর্ণিশ করে তার কর্মকাণ্ডকে। তাই পথেই জুটে যায় দুমুঠো খাবার। তবু রিকশায় রাখা থাকে রান্নার সমস্ত সরঞ্জাম। যেখানে খাবারের কোন ব্যবস্থা থাকে না, সেখানে নিজেই রান্নার ব্যবস্থা করে নেন সত্যেন। এখন তাকে আর উপহাস করে না কেউ। যারা একসময় তাকে বিদ্রুপ করেছিল, আজ তারাই সাফল্য কামনা করে মনে মনে। কারন একজন 'সামান্য' রিকশাওয়ালাই আজ 'অসামান্য' হবার নেশা ধরিয়ে দিয়েছে বারুইপুর গড়িয়ার বাসিন্দাদের অন্তরে, তাদের বিশ্বাসে।
