ডা. ওঙ্কারের জীবন হঠাৎ বদলে যায় প্রায় তিন বছর আগে। সেই সময় তাঁর কানে একটি ছোট গাঁট দেখা দেয়। শুরুতে তিনি সেটিকে সাধারণ সংক্রমণ বা ছোট ফোঁড়া বলে ভেবেছিলেন। কিন্তু একজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা অন্য ইঙ্গিত দিচ্ছিল। তিনি দেরি না করে পরীক্ষা করান।
প্রাথমিক রিপোর্টে গাঁটটিকে সাধারণ বলা হয়, কিন্তু তাঁর মন তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। এর পর তিনি বায়োপসি করান, আর সেই রিপোর্টই সবকিছু বদলে দেয়। তাঁর কানে ক্যানসার ধরা পড়ে। তিনি ভয় না পেয়ে পৌঁছন ভোপাল এইমসে।
advertisement
ক্যানসার শব্দটি শুনলেই সাধারণত রোগী ও তাঁদের পরিবার ভেঙে পড়ে। কিন্তু ডা. ওঙ্কার সেই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেন, ভয় পেয়ে বসে থাকবেন না। তিনি বলেন, “যখন রোগ ধরা পড়েছে, তখন আর পিছিয়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।” এর পর তিনি ভোপাল এইমস-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং চিকিৎসা শুরু করেন।
ভোপাল এইমস-এর চিকিৎসকরা জানান, ক্যানসার প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় সম্পূর্ণ সেরে ওঠার সম্ভাবনা খুবই বেশি। ডা. ওঙ্কারকে মোট তিনটি কেমোথেরাপি নিতে হয়। এই সময়ে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। কিন্তু তিনি কখনও চিকিৎসায় অবহেলা করেননি।
Local 18-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় ডা. ওঙ্কার সিং চৌহান বলেন, এই পুরো যুদ্ধের মধ্যে পরিবারই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। চিকিৎসার সময় পরিবারে প্রতিটি সদস্যই তাঁর মনোবল বাড়িয়েছে এবং প্রতিটি ধাপে পাশে থেকেছে। ডা. ওঙ্কার বলেন, “ক্যানসার শুধু শরীরের বিরুদ্ধে লড়াই করে না, এটি প্রথমেই মানুষের মনের উপর আক্রমণ করে। যদি মন হারিয়ে যায়, তাহলে শরীরও হারিয়ে যায়। আমি ঠিক করেছি যে আমি মানসিকভাবে শক্ত থাকব এবং ডাক্তারদের প্রতিটি পরামর্শ সততার সঙ্গে মেনে চলব।”
তিন বছর আগে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা ডা. ওঙ্কার আজ সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি শুধু হাঁটাচলা করছেন না, আজও রোগী দেখছেন এবং নিজের স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। তাঁর মতে, ক্যানসার নিয়ে সমাজে অনেক ভয় ছড়িয়ে আছে, অথচ বাস্তবতা হল, যদি সময়মতো পরীক্ষা করা হয় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা হয়, তাহলে ক্যানসারকে পরাজিত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন- শরীর বাসা বাঁধলেই ‘মৃত্যু’! বিশ্বে সবচেয়ে সাধারণ এই ‘৫’ ক্যানসার, WHO-এর পরিসংখ্যান
ক্যান্সার দিবসে ডা. ওঙ্কার সিং চৌহান ক্যান্সার রোগীদের জন্য একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যদি কেউ ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে, সে যেন সব শেষ বলে ভেবে না বসেন। আমি ৭৪ বছর বয়সে ক্যান্সারকে হারিয়েছি। যদি আমি পারি, আপনিও অবশ্যই পারবেন। শুধু সময়মতো চিকিৎসা করান, অবহেলা করবেন না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সাহস হারাবেন না।”
