২০০৭ সালে দাঁতনের ঘোলাই উদয় ভারতী হাইস্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তরুণ সিংহ মহাপাত্র। সেখানেই প্রথম পরিচয় সীমান্ত বাংলার মিশ্র সংস্কৃতির সঙ্গে। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বাংলাভাষী হলেও দৈনন্দিন জীবনে ওড়িয়া ভাষার ব্যাপক ব্যবহার তাঁকে ভাবিয়ে তোলে। লোকসংস্কৃতি নিয়ে পড়াশোনার সূত্রে ভাষার এই ব্যবধানই হয়ে ওঠে বড় বাধা। সেই বাধা কাটাতেই নিজের আগ্রহ ও চেষ্টায় ধীরে ধীরে ওড়িয়া ভাষা রপ্ত করতে শুরু করেন তরুণ সিংহ মহাপাত্র।
advertisement
শিক্ষকতা, পরিবার ও সংসারের দায়িত্ব সামলে এই ভাষাচর্চাই একসময় তাঁকে নিয়ে যায় অনুবাদের পথে। সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছাতেই প্রখ্যাত সাহিত্যিক পদ্মশ্রী মনোজ দাসের একাধিক ওড়িয়া ছোটগল্প বাংলায় অনুবাদ করেন। এই কাজের ক্ষেত্রে স্বয়ং মনোজ দাসের সান্নিধ্য ও উৎসাহও পেয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি, ওড়িয়া সাহিত্যের আরও এক বিশিষ্ট লেখক শ্রীকান্ত চরণ পাত্রের গল্পও বাংলায় অনুবাদ করেন তরুণ সিংহ মহাপাত্র। ওড়িয়া থেকে বাংলা ভাষায় অনূদিত দুটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর আগেও লোকসংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা ‘লোকভাষ’ তিনি দু’বার সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সময়ে অনূদিত ওড়িয়া ছোটগল্প ছাপা হয়েছে একাধিক পত্রপত্রিকায়।
নিজের জন্মভূমি, যেখানে ওড়িয়া ভাষার তেমন প্রচলন নেই, কর্মসূত্রে সীমান্ত এলাকায় এসে সেই ভাষাকে আপন করে সাহিত্যের সেতুবন্ধন গড়ে তোলা সহজ কাজ নয়। নিঃস্বার্থ আগ্রহ ও নিরলস পরিশ্রমেই সেই ‘অসাধ্য সাধন’ করে দেখিয়েছেন শিক্ষক তরুণ সিংহ মহাপাত্র।





