ঘটনার সূত্রপাত উত্তর চব্বিশ পরগনার বসিরহাটে। সেখানকার বাসিন্দা রাইজুল (নাম পরিবর্তিত) বিএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। পড়াশোনায় খুবই ভাল রাইজুল। কিন্তু ফুটবল খেলতে গিয়ে আচমকাই বুকে চাপ অনুভব করেন। তারপরেই লুটিয়ে পড়েছিলেন মাঠেই। প্রায় ২ মিনিট অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে জরুরিকালীন ভিত্তিতে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখান থেকে কলকাতার ঢাকুরিয়া মণিপাল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাঁকে। যখন হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন, তখন রাইজুলের অবস্থা ছিল সঙ্কটজনক। কারণ নাড়ি পাওয়া যাচ্ছিল না, আর পরিমাপ করা যাচ্ছিল না রক্তচাপও। সঙ্গে সঙ্গে কার্ডিয়াক ক্যাথিটারাইজেশন ল্যাবরেটরিতে শিফট করা হয় ওই ছাত্রকে। এমার্জেন্সি লাইফ-সাপোর্ট চালু করা হয়।
advertisement
এই প্রসঙ্গে কনসালট্যান্ট ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট সৌম্যকান্তি দত্ত বলেন, “কোনও রকম সময় নষ্ট না করেই করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি করা হয়। তাতে দেখা যায় যে, ওই ছাত্রের বাম করোনারি আর্টারির পুরোটাতেই ব্লকেজ। এটা একটা প্রাণঘাতী অবস্থা। আর সবথেকে বড় কথা হল, কমবয়সীদের মধ্যে সাধারণত এটা বিরল। আসলে করোনারি আর্টারির রোগ এবং মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন সাধারণ ভাবে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে দেখা যায়। ফলে একজন ১৯ বছর বয়সী তরুণের এহেন গুরুতর করোনারি আর্টারির রোগ বিরলই বলা চলে, যেখানে রাইজুলের ধূমপানের অভ্যাস নেই। সঙ্গে তাঁর ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন তো নেই-ই। এমনকী পরিবারে হৃদরোগের কোনও ইতিহাসও নেই। যদিও আমরা তৎপরতার সঙ্গে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি এবং সিপিআর করায় ওই তরুণ প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, খুব শিগগিরিই কলেজ যাওয়াও শুরু করবেন তিনি।”
রাইজুলের ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকি তো ছিলই। কিন্তু তা সত্ত্বেও মেডিক্যাল টিম এমার্জেন্সি প্রাইমারি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করেছে। ওই প্রক্রিয়া করতে গিয়ে আবার রোগীর তিন বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল। কিন্তু প্রত্যেক বার সফল ভাবে অ্যাডভান্সড কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) প্রয়োগ করতেই সাড়া দিয়েছেন রোগী। আর এই ধরনের হাই-রিস্ক প্রক্রিয়ার সময় বারবার অ্যারেস্ট সত্ত্বেও রোগীর সাড়া দেওয়া কিন্তু যথেষ্টই বিরল। চিকিৎসক দলটি লেফট মেন বাইফারকেশন স্টেন্টিং করে হৃদপিণ্ডে রক্তপ্রবাহ পুনরূদ্ধার করেন। এই প্রক্রিয়ার পরেই দ্রুত সেরে উঠতে থাকেন রোগী। এর দিন দুয়েক পরেই স্থিতিশীল অবস্থায় রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
রাইজুলের অবস্থা নিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ওই তরুণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভাবে ডিসলিপিডেমিয়া (অস্বাভাবিক কোলেস্টেরলের মাত্রা)-র সমস্যা ছিল। যার জেরে এই সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। আর এত কম বয়সে এই ধরনের ডিসলিপিডেমিয়া অনেক সময় হতে পারে জেনেটিক লিপিড ডিজঅর্ডার(পারিবারিক হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া)-এর জেরে। যা তুলনামূলক ভাবে বিরল। কিন্তু এর থেকে প্রাথমিক করোনারি আর্টারির রোগ হতে পারে।
