তাই সাধনা ক্ষেত্র হিসেবে বেড়া গ্রামকেই বেছে নিয়েছিলেন সাধক রামানন্দ। কথিত আছে, এই রামানন্দ তাঁর মৃত্যুর আগে, তার এক শিষ্যকে এই পুজোর দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই থেকেই বেড়া গ্রামের ব্যানার্জী পরিবার এই কালী পুজোর দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যানার্জী পরিবারের মেয়ে রানি ঘোষ জানিয়েছেন, “এই পুজো কত বছরের পুরানো সেটা আমরাও সঠিকভাবে বলতে পারব না। আমরা শুনেছি, রাই রামানন্দ এখানে গঙ্গার ধারে তপস্যা করতেন এবং তিনি এই পুজো প্রথম শুরু করেছিলেন। অমাবস্যার দিন ভাজাপোড়া হয়। মায়ের ভোগের দিনে ১৮ থেকে ৫২ রকমের ভাজা দেওয়া হয়।”
advertisement
আরও পড়ুন: গঙ্গার ধারে প্রাচীন এই মা অভয়া! কালী মায়ের কাহিনি অবাক করবে
এই বেড়া গ্রামের কালী মন্দিরের পাশেই রয়েছে পঞ্চমুণ্ডির আসন। কথিত এই পঞ্চমুণ্ডি আসনে বসেই রামানন্দ সাধনা করতেন। এখনও পুরানো বিভিন্ন নিয়ম মেনে পূজিত হন রামানন্দের কালী। রীতি মেনে অমাবস্যায় চালভাজা সহ আরও বিভিন্ন রকমের ভাজা দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেবীর পুজো শুরু হয়। তবে মায়ের ভোগে দিতেই হবে তিন রকমের মাছ। মাগুর, ইলিশ এবং পোনা এই তিন ধরনের মাছ দেওয়া হয় ভোগে। এখানে তিন রাত্রি থাকে মা কালীর প্রতিমা। তার পরেই হয় প্রতিমা নিরঞ্জন। এমনিতে সারা বছর বেদির সামনে ঘট রেখে দেবীর পুজো চলে।
প্রতিদিনই অন্নভোগের ব্যবস্থাও করা হয়। তবে কালীপুজোয় বিশেষ ধুমধাম করে পুজোপাঠ করা হয়। কালীপুজোর সময় তৈরি হয় দেবীর প্রতিমা। এছাড়াও ডাকের সাজ এই কালীর অন্যতম। বেড়া গ্রামের ব্যানার্জী পরিবার দায়িত্বে থাকলেও, এই পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন সম্পূর্ণ গ্রাম। আশপাশ গ্রাম সহ দূর দূরান্ত থেকেও পুজো দেখার জন্য বহু মানুষ আসেন। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন সকলেই।
বনোয়ারীলাল চৌধুরী





