চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ যুগল রাজপুত বলেন যে খুশকির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হল মাথার ত্বকে ম্যালাসেজিয়া নামক একটি ছত্রাক। এই ছত্রাকটি সবার মাথার ত্বকে থাকে, কিন্তু যখন এটি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তখন ত্বকের কোষগুলি দ্রুত ঝরে পড়ে, যার ফলে সাদা আঁশ এবং চুলকানি হয়। অতিরিক্ত তৈলাক্ত মাথার ত্বক, হরমোনের পরিবর্তন, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ঠান্ডা বা আর্দ্র আবহাওয়া এই ছত্রাককে উস্কে দিতে পারে, যার ফলে খুশকি হয়।
advertisement
ডাক্তার ব্যাখ্যা করেছেন যে কিছু ক্ষেত্রে, খুশকি আরও গুরুতর ত্বকের অবস্থার সাথে যুক্ত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস মাথার ত্বকে লালচেভাব এবং ঘন আঁশ সৃষ্টি করে, যার মধ্যে ভ্রু, কানের পিছনে এবং নাকের চারপাশে রয়েছে। শুষ্ক মাথার ত্বকে শুষ্কতা বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে সোরিয়াসিস ঘন, সাদা আঁশ তৈরি করে। যদি খুশকির সাথে জ্বালা, লালভাব বা ক্ষতের মতো লক্ষণ থাকে, তবে এটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এই ক্ষেত্রে, মূল্যায়নের জন্য অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। বিশেষজ্ঞ ব্যাখ্যা করেছেন যে খুশকির সঠিক চিকিৎসা কারণের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, ঔষধযুক্ত অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু সুপারিশ করা হয়। এই শ্যাম্পুগুলির উপাদানগুলি ছত্রাক নিয়ন্ত্রণ করে এবং ধীরে ধীরে মাথার ত্বকের আঁশ কমায়। শ্যাম্পু প্রয়োগ করার পরে, এটি কার্যকর হওয়ার জন্য কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ মিনিটের জন্য মাথার ত্বকে রেখে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: ভুট্টা নয়, এই দানার পপকর্ন খান একমুঠো! সুস্থ থাকবে হার্ট, কমবে ওজন, সারবে বদহজম!
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেন যে, কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস খুশকিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। অতিরিক্ত তেল লাগানো, প্রতিদিন গরম জল দিয়ে চুল ধোয়া, অথবা ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখা, এসবই খুশকিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাছাড়া, অতিরিক্ত চাপ, ঘুমের অভাব এবং পুষ্টির অভাবও মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদি ২-৩ সপ্তাহ ঔষধযুক্ত শ্যাম্পু এবং সঠিক যত্নের পরেও খুশকির উন্নতি না হয়, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করা অপরিহার্য। গুরুতর ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা ছত্রাক-বিরোধী লোশন, স্টেরয়েড দ্রবণ, অথবা মুখের ওষুধ লিখে দিতে পারেন। সময়মত এবং উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে, খুশকি নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং চুল এবং মাথার ত্বকের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করা যায়।
