বিপত্তারিণী পুজো মানেই ছোটবেলায় প্রধান আকর্ষণ ছিল দুর্বা ঘাসের সঙ্গে বাঁধা হাতের লাল তাগা ৷ ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের বিশ্বাস, এই তাগা হাতে পরলে তাঁকে কোনও বিপদ স্পর্শ করতে পরে না ৷ তাই বিপত্তারিণী পুজোর শেষে সকলেই হাতে ওই তাগা বাঁধেন ৷ মেয়েরা বাম হাতে ও ছেলেরা ডান হাতে এটি পরেন ৷ বিপত্তারিণী পুজোর উপাদান খুবই সামান্য ৷ সেই আচার পালন করলেই ফললাভ হয় বলে বিশ্বাস ৷
advertisement
আরও পড়ুন: গ্রহ দোষ? জেনে নিন কোন গ্রহের জন্য কোন রুদ্রাক্ষ ধারণ করবেন
দেবী বিপত্তারিণীর রূপের সঙ্গে দেবী সংকটতারিণী বা মাতা সংকটার সাদৃশ্য রয়েছে। কোথাও তিনি শঙ্খ-চক্র-শূল ও অসিহস্তা স্বর্ণবর্ণা ত্রিনয়না, আবার কোথাও তিনি খড়গ-শূল-বরাভয়ধারিণী লোলজিহ্বা ঘোরকৃষ্ণা। পূজার উপকরণের পুষ্প, ফল, ইত্যাদি সবকিছুই ১৩টি করে নিবেদন করার নিয়ম। এমনকি হাতে ধারণ করার রক্তসুতোটিতেও ১৩টি গ্রন্থি দেওয়ার বিধান রয়েছে। ঘট‚ আমের পল্লব‚ শীষ সমেত ডাব‚ একটি নৈবেদ্য‚ তেরোরকম ফুল‚ দু ভাগে কাটা তেরো রকম ফল । আলাদা চুবড়িতে তেরোটা গোটা ফল‚ তেরো গাছি লালসুতো‚ তেরোটি দুর্বা‚ তেরোটি পান ও তেরোটি সুপুরি দিতে হয় । পুজোর শেষে পুরোহিতকে যথাসাধ্য দান-ধ্যান ও দক্ষিণা দিতে হয় এবং পুজোর শেষে মন দিয়ে ব্রত কথা শুনতে হয়। ব্রতের আগের দিন নিরামিষ আহার করলে ব্রতের ফল ভাল হয় বলে মনে করেন অনেকে ৷ ব্রতের দিন পুজো করে ব্রতকথা শুনে ফল-মিষ্টি বা লুচি খেয়ে উপোস ভাঙেন ভক্তরা ৷ এরপরেই লাল সুতোয় তেরোটি গিঁট দিয়ে তেরোটি দূর্বা বাঁধতে হয়। উচ্চারণ করতে হয় বিপত্তারিণীর মন্ত্র ৷
আরও পড়ুন: জানে নিন, স্বপ্নে সাপ দেখার প্রকৃত অর্থ কি ?
মাসি পূণ্যতমে
বিপ্রমাধবে মাধবপ্রিয়ে।
ন বম্যাং শুক্লপক্ষে চ
বাসরে মঙ্গল শুভে।।
সর্পঋক্ষে চ মধ্যাহ্নে
জানকী জনকালয়ে।
আবির্ভূতা স্বয়ং দেবী
যোগেষু শোভনেষুচ।।
নমঃ সর্ব মঙ্গল্যে
শিবে সর্ব্বাথ্যসাধিকে
শরণ্যে ত্রম্বক্যে গৌরী
নারায়ণী নমস্তুতে।।
