রাজনীতি ছাড়বেন রিঙ্কু? ‘সবার জন্য নিয়ম এক হওয়া উচিত …’ ক্ষুব্ধ দিলীপজায়া টিকিট না পেয়ে যা বললেন!
এপিলেপ্সি বা মৃগি কী?
আমাদের শরীরে নিউরন বা স্নায়ুকোষগুলি বৈদ্যুতিক ও রাসায়নিক সংকেত তৈরি করে, যা চিন্তা, অনুভূতি ও কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এপিলেপ্সি হল একটি দীর্ঘস্থায়ী স্নায়ুরোগ, যেখানে মস্তিষ্কের কিছু নিউরন ভুল সংকেত পাঠাতে শুরু করে, যার ফলে খিঁচুনি বা সিজার হয়।
advertisement
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিজারের সময় বহু নিউরন একসঙ্গে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে সংকেত পাঠাতে থাকে। এই অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের ফলে শরীরে অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, অদ্ভুত অনুভূতি, আচরণগত পরিবর্তন বা অচেতনতা দেখা দিতে পারে।
EEG পরীক্ষা কী?
অনেকেই মনে করেন সিজার মানেই তীব্র খিঁচুনি। কিন্তু বাস্তবে সিজার অনেক সময় খুব সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ পায়—যেমন হঠাৎ স্থির হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে পড়া, পেশির হঠাৎ টান, বা কয়েক মুহূর্তের জন্য সচেতনতা হারিয়ে ফেলা।
এই ধরনের উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও অনেকেই বুঝতে পারেন না যে এর পিছনে স্নায়বিক সমস্যা থাকতে পারে। এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় EEG (ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম) পরীক্ষা।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. শ্রীপাল শাহ জানিয়েছেন, EEG একটি সহজ, নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা, যা মস্তিষ্কের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে। যেহেতু সিজার মূলত মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বৈদ্যুতিক স্রোতের কারণে হয়, তাই EEG পরীক্ষায় সেই অস্বাভাবিক প্যাটার্ন শনাক্ত করা সম্ভব—এমনকি অনেক সময় MRI বা CT স্ক্যান স্বাভাবিক থাকলেও।
কাদের জন্য এই পরীক্ষা প্রয়োজন?
EEG বিশেষভাবে উপকারী তাঁদের জন্য—
যাঁদের বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে
অকারণে পড়ে যাওয়া বা ভারসাম্য হারানো
স্মৃতিভ্রংশ বা ‘মেমরি গ্যাপ’
হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার মতো অবস্থা
প্যানিক অ্যাটাকের মতো উপসর্গ, যা মানসিক চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে না
সব মিলিয়ে, মস্তিষ্কের সুস্থতা বজায় রাখতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও চিকিৎসা অনেক বড় বিপদ এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
