রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানায়, ‘‘সুপ্রিম কোর্টের তরফে আমাদের কাছে নির্দেশ এসেছে। অর্ডার কপি আপলোড হলে সব জানিয়ে দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে সেটা কার্যকর করা হবে। নতুন করে আর লজিক্যাল ডিসক্রিপন্সি নিয়ে আলোচনা করার জায়গা নেই।’’
advertisement
সোমবার এসআইআর নিয়ে এক গুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে৷ সেই তালিকা পঞ্চায়েত সহ সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক ভবনের বাইরে টাঙিয়ে দিতে হবে৷ শুধু তাই নয়, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, যাঁরা এফেক্টেড হচ্ছেন, তাঁরা নিজেদের অথরাইজড রিপ্রেজেন্টেটভ দিতে পারেন। সেই রিপ্রেজেন্টেটিভ বিএলএ হতে পারে। সেই ব্যক্তিকে অথরাইজেশন লেটার নিয়ে আসতে হবে। সই করা বা হাতের ছাপ দেওয়া। অবজেকশনের ক্ষেত্রে নথি পঞ্চায়েত ভবন/ব্লক অফিসে জমা দেওয়া যাবে।
রাজ্যের উদ্দেশ্যে আদালতের নির্দেশ, রাজ্য সরকার হিয়ারিংয়ের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখবে। যথা সম্ভব কর্মী দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। যাতে নথি জমা দিতে ভোটারদের কোনও সমস্যা না হয়। ডিজিপির দায়িত্ব এটা নিশ্চিত করা যে কোনও আইনশৃঙ্খলার অবনতি না হয়। অবজেকশন জমা দেওয়ার সময় দেওয়া হল, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের ১০ দিন পর্যন্ত।
শুধু তাই নয়, আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ভোটারের তরফে জমা দেওয়া নথি স্যাটিসফায়েড না হলে নোটিস দেওয়া হবে। এফেক্টেড ভোটারদের নথি জমা দেওয়ার পরও শোনার সুযোগ দিতে হবে। এরপরই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ”মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও নেওয়া হচ্ছে না। আমাদের মাধ্যমিকের নথিতে জন্মের তালিকা দেওয়া আছে।” এই অভিযোগ শুনে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ”আপনি আমাদের কাছে এরকম তালিকা নিয়ে আসুন, যাঁদের মাধ্যমিকের অ্যডমিট অ্যালাও করা হয়নি।” বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত সাফ বলেন, ”আপনাদের তো বোর্ডের দেওয়া অ্যাডমিট কার্ড অ্যালাও করতে হবে। কারণ বাংলায় জন্মের শংসাপত্রের সঙ্গে তালিকা মিলিয়ে দেওয়া হয় বোর্ডের অ্যাডমিট কার্ডে। সেটা কেন আপনারা গ্রহণ করছেন না?” প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ”তাহলে দুটো নথিই চাইতে পারে কমিশন। জন্মের শংসাপত্র এবং অ্যাডমিট কার্ড।”
