দক্ষিণ ২৪ পরগনার অপসারিত জেলাশাসক অরবিন্দ কুমার মীনাকে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের সচিব করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের অপসারিত জেলাশাসক পদে ছিলেন আয়েশা রানি। তাঁকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদের অপসারিত জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা হচ্ছেন রাজ্যের কৃষি দফতরের বিশেষ সচিব। নদিয়ার অপসারিত জেলাশাসক নিখিল নির্মল স্কুল শিক্ষা দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন। মালদহের অপসারিত জেলাশাসক প্রীতি গয়ালকে পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের বিশেষ সচিব করে। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক ছিলেন সিয়াদ এন। তাঁকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে নবান্ন। আলিপুরদুয়ারের অপসারিত জেলাশাসক অভিজিৎ তুকারাম প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব হচ্ছেন। কোচবিহারের অপসারিত জেলাশাসক রাজু মিশ্র পাচ্ছেন পরিবহণ দফতরের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব। জলপাইগুড়ির অপসারিত জেলাশাসক রবিপ্রকাশ মীনা গণশিক্ষা বিভাগের বিশেষ সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন।
advertisement
কলকাতার প্রাক্তন দুই ডিইও-কেও নতুন পদ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত, কোনও জেলার জেলাশাসককে সেখানকার ডিইও-র দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়ম ভিন্ন। কলকাতায় জেলাশাসক না থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। দক্ষিণ কলকাতায় সেই দায়িত্বে ছিলেন সুমিত গুপ্ত। তাঁকে নবান্ন বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সচিবের দায়িত্ব দিয়েছে। উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কিছু দিন আগে। সেই পদ থেকে অংশুল গুপ্তকে বুধবার সরিয়ে দেয় কমিশন। নবান্ন তাঁকে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের বিশেষ সচিব করে পাঠাল।
জেলাজুড়ে পুলিশকর্তাদের রদবদলের পরে বুধবার জেলাশাসকদের পদে বড় রদবদল করে নির্বাচন কমিশন৷ সূত্রের খবর, ১৩ জন জেলাশাসককে সরানো হয়েছে কমিশনের তরফে। একসঙ্গে ১৩ জন আইএসকে বদলি৷ এর মধ্য়ে কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ কলকাতার উত্তর ও দক্ষিণ অংশও রয়েছে।
আরও পড়ুন: ৩০ দিনে মোদি ১৪-শাহ ৮ র্যালি! বাংলায় ভোটপ্রচারে ঝড় তুলতে বিজেপির বড় প্ল্যান, কী কী হবে?
জানা গিয়েছে, নির্দেশ অনুযায়ী, এই বদলি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে এবং ১৯ মার্চ ২০২৬ বিকেল ৩টের মধ্যে যোগদানের রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, যাঁদের সরানো হয়েছে, তাঁদের নির্বাচনী কাজে আর কোনও পদে রাখা যাবে না নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত। এ ছাড়াও, কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে বদল করল কমিশন। দিন কয়েক আগেই উত্তর কলকাতার ডিইও হিসাবে পুরসভার কমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ডিইও হিসাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসককে নিয়োগ করে কমিশন। তবে কলকাতার ক্ষেত্রে নিয়মটা আলাদা।
আরও পড়ুন: তাঁর আচরণ বুঝিয়ে দিচ্ছে উনি বিজেপির হয়ে কাজ করছেন’, বালিগঞ্জে প্রচারে বেরিয়ে শোভনদেবের নিশানায় কে?
কলকাতায় জেলাশাসক না-থাকায় কোনও দফতরের আইএএস পদমর্যাদার আধিকারিককে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট কোনও পদাধিকারিকের উপর দায়িত্ব থাকত না। তবে কমিশন জানায়, এ বার থেকে উত্তর কলকাতার ডিইও হবেন যিনি পুরসভার কমিশনার থাকবেন। বুধবার পুর কমিশনার সুমিত গুপ্তের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল স্মিতা পাণ্ডেকে। আর দক্ষিণ কলকাতায় নতুন ডিইও করা হয়েছে রনধীর কুমারকে। কমিশন জানিয়েছে অবিলম্বে এই নির্দেশিকা কার্যকর করা হবে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের রাজ্যে ৫ ডিআইজি বদলের নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এর আগে ১৯ জন সিপি-এসপি বদলের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এই প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, বর্ধমান রেঞ্জের নতুন ডিআইজি করা হয়েছে শ্রীহরি পাণ্ডেকে। প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের নতুন ডিআইজি হলেন কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই। মুর্শিদাবাদ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি অজিত সিং যাদব। জলপাইগুড়ি রেঞ্জের নতুন ডিআইজি পদ সামলাবেন অঞ্জলি সিং। এবং রায়গঞ্জ রেঞ্জের নতুন ডিআইজি রাঠোর অমিত কুমার ভকত।
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
