গত ১৬ ডিসেম্বর বান্ধবীর বাড়ির বহুতল থেকে নীচে পড়ে গিয়েছিলেন ভিকি শর্মা। প্রেমিকা শিখা সিংয়ের অভিযোগ ছিল, ভিকি-ই তাঁর বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতে তাঁর উপরে হামলা চালায়৷ এলোপাথাড়ি ছুরির কোপ দিতে থাকে৷ কুপিয়ে খুনের চেষ্টা করে তাঁকে৷ তারপর বারান্দা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নিজেই আত্মঘাতী হয়৷ কিন্তু, শিখার এই বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি দেখতে পেয়েছিল পুলিশ৷
advertisement
আরও পড়ুন: ‘আমরাই সরকার গড়ছি’, ঢালাও ভোট পেয়ে ঘোষণা বিএনপি-র! বাংলাদেশে জায়গা পেল না জামাত
এরপরে, ভিকি শর্মার ময়না তদন্তের রিপোর্টে মেলে খুনের ইঙ্গিত৷ ভিকির বুকে ও পিঠে একাধিক ছুরির আঘাত ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, বান্ধবী শিখার সঙ্গে সেদিন বচসায় জড়িয়ে পড়েছিলেন ভিকি। সেই সময় শিখা ক্রমাগত তাঁকে ছুরি দিয়ে আঘাত করতে থাকে। এরপরই বারান্দা থেকে পড়ে যান ভিকি৷
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যা প্রমাণ মিলেছে তাতে শিখা ছাড়া অন্য কারও উপস্থিতি সেখানে ছিল না৷ সেই কারণেই শুক্রবার গ্রেফতার করা হল তাঁকে৷
গত ১৬ ডিসেম্বর পোস্তার শিবঠাকুর লেনে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় রাজেন্দ্র শর্মার। তাঁর প্রেমিকা শিখা সিংয়ের শরীরে মেলে একাধিক কোপের চিহ্ন। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান ছিল, বিধবা শিখার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে রাজেন্দ্র ছুরি দিয়ে শিখাকে আঘাত করে খুনের চেষ্টা করেছিলেন। তারপরে তিনি মরণঝাঁপ দেন। তাঁর দেহের কাছ থেকে একটি রক্তাক্ত ছুরি উদ্ধার হয়। সেটিরও ফরেন্সিক পরীক্ষা করানো হয়।
শিখা সিং পুলিশকে জানিয়েছিলেন যে, ওই ছুরি হাতে নিয়েই নীচে লাফ দিয়েছিলেন রাজেন্দ্র। তার আগে রাজেন্দ্র তাঁকে ওই ছুরি দিয়েই কোপান। শিখা সিংয়ের তিনতলার ফ্ল্যাটের বারান্দায় প্রচুর রক্ত পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেই রক্তের নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। পরে রাজেন্দ্রর বাবা পোস্তা থানায় শিখার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করার পরে ঘটনার মোড় ঘোরে। তদন্ত শুরু করে পুলিশ৷
