মমতা জানান, রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্প মানুষের সুবিধার জন্য চালু করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও আরও কাজ হবে। মানুষের বিশ্বাস ও সহযোগিতাতেই সরকার উন্নয়নের কাজ করে চলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের কাজ চলছে, যেখানে ২৪টি শিবলিঙ্গ থাকবে এবং একটি বৃহৎ শিবমূর্তি স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যে জগন্নাথ মন্দির সহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার উন্নয়ন করা হয়েছে। মন্দির হোক বা মসজিদ, যে যে জায়গায় কাজের অনুরোধ এসেছে, সেখানে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
advertisement
একটি বিষধর সাপ যদি আর একটি বিষধর সাপকে কামড়ায়, তাহলে কী হয়? সব বিষই কি মৃত্যুর কারণ হয়?
তিনি বলেন, “যারা বলছে বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে। তারা ভুল বলছে। হাওড়া থেকে দূর্গাপুর যান রাস্তার দুই ধারে দেখবেন কি কি কাজ হয়েছে। কত শিল্প সংস্থা এসেছে। আমি বনধের বিরোধী। আমি বনধ করতে দেব না। পরিকাঠামো উন্নয়ন কি কি হয়েছে দেখুন। একবার পুরুলিয়ার দেখে চেয়ে দেখুন। এছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কাজ হচ্ছে। তার জন্য কর্মসংস্থানের জোর দেওয়া হয়েছে। আমরা সেই কারণেই যারা বাইরের রাজ্যে কাজ করছে তারা ফিরে আসুন।”
বনধ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, তিনি বনধের বিরোধী এবং রাজ্যে বনধ করতে দেবেন না। পুরুলিয়া সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উন্নয়নের কাজ চলছে এবং তা চোখে পড়ার মতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কোনও সমস্যা হলে মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব, HIDCO অথবা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, জীবনে শান্তি ও স্থিরতা থাকলে এবং পরিবার ঠিক থাকলে ব্যবসাও বাড়বে। সেই জন্য পরবর্তী প্রজন্মকে প্রস্তুত করাও জরুরি।
ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নয়, সবাই ভারতীয়। রাজ্যে সংখ্যালঘু, আদিবাসী সকলেই আছে এবং স্বাধীনতার সময় থেকেই সকলে একসঙ্গে বসবাস করছে।” কেউ যাতে উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়, শান্তি বজায় রাখাই সরকারের দায়িত্ব বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও জানান, বগলামুখী মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত পুজো হচ্ছে। নিজের সাধ্যের মধ্যে যা যা করা সম্ভব, সবই করা হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভবিষ্যতে কোনও এলাকায় আরও উন্নয়নের প্রয়োজন হলে জানাতে বলেন তিনি এবং আশ্বাস দেন, রাজ্য সরকার সেই কাজও করবে।
এদিকে, এসআইআর ঘিরে রাজ্যের একাংশের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনার খবর সামনে এসেছে। তারই মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হলেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতি আরও জোরদার হবে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। এমন আবহেই সম্প্রতি সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এবার আগামিকাল সেই সিঙ্গুরেই সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা শেষে সেখান থেকেই তিনি কলকাতা বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং রাতেই দিল্লি যাবেন বলে জানা যাচ্ছে।
দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দিষ্ট কর্মসূচি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে বাজেটের সময় এবং রাজ্যে চলমান এসআইআর সংক্রান্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে তিনি কোনও কর্মসূচি নেন কিনা, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, দিল্লি সফরে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সাধারণত একাধিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচি থাকে। কখনও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ, কখনও দলের সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করে সংসদে তৃণমূলের কৌশল ঠিক করার নজির রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক সূত্রের ধারণা, রাজ্যে চলমান এসআইআর নিয়ে তীব্র আন্দোলনের পথে হাঁটতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ সময়ের কাজ অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করার চাপে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে এবং তার জেরেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই ইস্যুতে সংসদের উভয় কক্ষে তৃণমূল কংগ্রেস সরব হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
