advertisement

Snake Venom: একটি বিষধর সাপ যদি আর একটি বিষধর সাপকে কামড়ায়, তাহলে কী হয়? সব বিষই কি মৃত্যুর কারণ হয়?

Last Updated:
বিষধর সাপের কামড় মানেই নিশ্চিত মৃত্যু—এই ধারণা আমাদের মধ্যে গভীরভাবে গেঁথে আছে। কিন্তু প্রকৃতির বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল।
1/11
প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের মুখোমুখি হওয়া নতুন কিছু নয়। ফোঁসফোঁস শব্দ, ফণা তোলা, তারপর আচমকা আক্রমণ—এক সাপ আরেক সাপের শরীরে দাঁত বসায়, কখনও বিষও প্রবেশ করে। সাধারণভাবে আমরা ধরে নিই, এখানেই সব শেষ। কিন্তু প্রকৃতি এখানে আমাদের চমকে দেয়।
 প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের মুখোমুখি হওয়া নতুন কিছু নয়। ফোঁসফোঁস শব্দ, ফণা তোলা, তারপর আচমকা আক্রমণ—এক সাপ আরেক সাপের শরীরে দাঁত বসায়, কখনও বিষও প্রবেশ করে। সাধারণভাবে আমরা ধরে নিই, এখানেই সব শেষ। কিন্তু প্রকৃতি এখানে আমাদের চমকে দেয়।
advertisement
2/11
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি বিষধর সাপ আরেকটি বিষধর সাপকে কামড়ালেও সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা বা মৃত্যু হয় না। তখন প্রশ্ন ওঠে—সাপ কি নিজের বিষে মরে না? এমনও দেখা যায়, বিষ প্রবেশ করলেও অপর সাপটির তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। কেন এমন হয়?
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, একটি বিষধর সাপ আরেকটি বিষধর সাপকে কামড়ালেও সঙ্গে সঙ্গে তীব্র যন্ত্রণা বা মৃত্যু হয় না। তখন প্রশ্ন ওঠে—সাপ কি নিজের বিষে মরে না? এমনও দেখা যায়, বিষ প্রবেশ করলেও অপর সাপটির তেমন কোনও ক্ষতি হয় না। কেন এমন হয়?
advertisement
3/11
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বিষধর সাপই নিজেদের প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে। এর অর্থ এই নয় যে তারা সম্পূর্ণ প্রতিরোধী, বরং তাদের শরীর সেই বিষের প্রভাব অনেকটাই সহ্য করতে পারে। এই ক্ষমতা হঠাৎ তৈরি হয়নি; লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল এটি।
বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরীসৃপ বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বিষধর সাপই নিজেদের প্রজাতির বিষের বিরুদ্ধে আংশিক প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখে। এর অর্থ এই নয় যে তারা সম্পূর্ণ প্রতিরোধী, বরং তাদের শরীর সেই বিষের প্রভাব অনেকটাই সহ্য করতে পারে। এই ক্ষমতা হঠাৎ তৈরি হয়নি; লক্ষ লক্ষ বছরের বিবর্তনের ফল এটি।
advertisement
4/11
প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের মধ্যে লড়াই, এলাকা দখলের সংঘর্ষ বা প্রজনন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে কামড় দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। যদি প্রতিটি কামড়েই মৃত্যু হত, তাহলে বহু সাপের প্রজাতি এতদিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।
প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের মধ্যে লড়াই, এলাকা দখলের সংঘর্ষ বা প্রজনন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে কামড় দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। যদি প্রতিটি কামড়েই মৃত্যু হত, তাহলে বহু সাপের প্রজাতি এতদিনে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত।
advertisement
5/11
বিজ্ঞানীরা একে ‘ইমিউনিটি’ না বলে ‘প্রাকৃতিক প্রতিরোধ’ বলতেই বেশি সঠিক মনে করেন। অর্থাৎ সাপের শরীরে এমন কিছু অ্যান্টিবডি ও প্রোটিন গঠন থাকে, যা নিজেদের প্রজাতির বিষকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।
বিজ্ঞানীরা একে ‘ইমিউনিটি’ না বলে ‘প্রাকৃতিক প্রতিরোধ’ বলতেই বেশি সঠিক মনে করেন। অর্থাৎ সাপের শরীরে এমন কিছু অ্যান্টিবডি ও প্রোটিন গঠন থাকে, যা নিজেদের প্রজাতির বিষকে অনেকটাই নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।
advertisement
6/11
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি কোবরা যদি আরেকটি কোবরাকে কামড়ায়, তাহলে বিষ ঢুকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হয় না। কামড়ের জায়গায় ফোলা, ক্ষত বা সাময়িক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, কিন্তু মৃত্যুর সম্ভাবনা খুবই কম।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি কোবরা যদি আরেকটি কোবরাকে কামড়ায়, তাহলে বিষ ঢুকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতী হয় না। কামড়ের জায়গায় ফোলা, ক্ষত বা সাময়িক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, কিন্তু মৃত্যুর সম্ভাবনা খুবই কম।
advertisement
7/11
তবে ছবির অন্য দিকটা অনেক বেশি ভয়ংকর। যখন একটি বিষধর সাপ অন্য প্রজাতির বিষধর সাপকে কামড়ায়, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়। সব সাপের বিষ এক রকম নয়।কিছু বিষ স্নায়ুকে আঘাত করে (নিউরোটক্সিক), শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে।
কিছু বিষ রক্ত ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে (হেমোটক্সিক)।
আবার কিছু বিষ কোষ নষ্ট করে দেয় (সাইটোটক্সিক)।
তবে ছবির অন্য দিকটা অনেক বেশি ভয়ংকর। যখন একটি বিষধর সাপ অন্য প্রজাতির বিষধর সাপকে কামড়ায়, তখন পরিস্থিতি বদলে যায়। সব সাপের বিষ এক রকম নয়। কিছু বিষ স্নায়ুকে আঘাত করে (নিউরোটক্সিক), শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ করে দিতে পারে। কিছু বিষ রক্ত ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত করে (হেমোটক্সিক)। আবার কিছু বিষ কোষ নষ্ট করে দেয় (সাইটোটক্সিক)।
advertisement
8/11
ধরা যাক, হেমোটক্সিক বিষযুক্ত একটি র‍্যাটলস্নেক যদি একটি কোবরাকে কামড়ায়। কোবরা নিজের নিউরোটক্সিক বিষ সামলাতে পারলেও, র‍্যাটলস্নেকের বিষের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা নাও থাকতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে সাপটির অবস্থা গুরুতর হতে পারে, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই ভিন্ন প্রজাতির সাপের মধ্যে কামড় অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে ধরা হয়।
ধরা যাক, হেমোটক্সিক বিষযুক্ত একটি র‍্যাটলস্নেক যদি একটি কোবরাকে কামড়ায়। কোবরা নিজের নিউরোটক্সিক বিষ সামলাতে পারলেও, র‍্যাটলস্নেকের বিষের বিরুদ্ধে তার প্রতিরোধ ক্ষমতা নাও থাকতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে সাপটির অবস্থা গুরুতর হতে পারে, এমনকি প্রাণঘাতীও হতে পারে। তাই ভিন্ন প্রজাতির সাপের মধ্যে কামড় অনেক বেশি বিপজ্জনক বলে ধরা হয়।
advertisement
9/11
Generated image এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, কিং স্নেকের মতো কিছু সাপ নিয়মিত অন্য বিষধর সাপ শিকার করে। তাদের শরীরে অসাধারণ মাত্রার বিষ-প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব সাপের মধ্যে এই ক্ষমতা থাকে না। এটিকে সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া বিপজ্জনক ভুল।
এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন, কিং স্নেকের মতো কিছু সাপ নিয়মিত অন্য বিষধর সাপ শিকার করে। তাদের শরীরে অসাধারণ মাত্রার বিষ-প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে। তবে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সব সাপের মধ্যে এই ক্ষমতা থাকে না। এটিকে সাধারণ নিয়ম ধরে নেওয়া বিপজ্জনক ভুল।
advertisement
10/11
Generated image আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হল—কখনও কখনও সাপ নিজের শরীরেই কামড় বসায়। তাতেও সাধারণত বিষে মৃত্যু হয় না, কারণ শরীর সেই বিষ চিনে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। যদি মৃত্যু ঘটে, তা বেশিরভাগ সময় সংক্রমণ, গুরুতর আঘাত বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হয়—বিষের কারণে নয়।
আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য হল—কখনও কখনও সাপ নিজের শরীরেই কামড় বসায়। তাতেও সাধারণত বিষে মৃত্যু হয় না, কারণ শরীর সেই বিষ চিনে নিয়ে নিষ্ক্রিয় করতে পারে। যদি মৃত্যু ঘটে, তা বেশিরভাগ সময় সংক্রমণ, গুরুতর আঘাত বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হয়—বিষের কারণে নয়।
advertisement
11/11
Generated image সব মিলিয়ে বলা যায়, সাপের কাছে বিষ কোনও প্রতিশোধের অস্ত্র নয়। শিকার ধরতে বা বিপদ থেকে বাঁচতেই তারা বিষ ব্যবহার করে। প্রকৃতির এই জটিল নিয়মই প্রমাণ করে—সব বিষই সমান নয়, আর সব কামড় মানেই মৃত্যু নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সাপের কাছে বিষ কোনও প্রতিশোধের অস্ত্র নয়। শিকার ধরতে বা বিপদ থেকে বাঁচতেই তারা বিষ ব্যবহার করে। প্রকৃতির এই জটিল নিয়মই প্রমাণ করে—সব বিষই সমান নয়, আর সব কামড় মানেই মৃত্যু নয়।
advertisement
advertisement
advertisement